প্রকাশ: রবিবার, ১১ মে, ২০২৫, ১১:৪০ AM

গৌতম বুদ্ধ ছিলেন একজন অনন্য ব্যক্তি ও সাধক, যিনি রাজকীয় বিলাসিতা ছেড়ে আত্মজ্ঞান ও মানবমুক্তির সন্ধানে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। খ্রিস্টপূর্ব ৫৬৩ সালে বর্তমান নেপালের লুম্বিনিতে জন্মগ্রহণ করেন রাজপুত্র সিদ্ধার্থ, যিনি পরে গৌতম বুদ্ধ নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত হন। তাঁর পিতা রাজা শুদ্ধোধন চেয়েছিলেন ছেলে যেন রাজ্য শাসন করেন, তাই রাজপ্রাসাদের ভিতরেই তাঁকে বড় করে তোলা হয়, যেখানে দুঃখ-কষ্ট, রোগ-শোক কিছুই ছিল না। কিন্তু একদিন প্রাসাদের বাইরে বেরিয়ে চারটি দৃশ্য—একজন বৃদ্ধ, এক রোগী, এক মৃতদেহ ও এক সন্ন্যাসী—তাঁর মনে গভীর প্রশ্ন তোলে। জীবন এত ক্ষণস্থায়ী, এত কষ্টে ভরা—তবে এর আসল মানে কী?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তিনি স্ত্রী ও শিশুপুত্রকে রেখে এক রাতে নিঃশব্দে প্রাসাদ ত্যাগ করেন। ছয় বছর কঠোর তপস্যা করে অবশেষে তিনি উপলব্ধি করেন, অতিরিক্ত ভোগ কিংবা আত্মনিগ্রহ—কোনোটাই মুক্তির পথ নয়। মধ্যম পথ গ্রহণ করে বোধগয়ায় এক বটগাছের নিচে গভীর ধ্যানে বসে তিনি জ্ঞান লাভ করেন। তখনই তিনি বুদ্ধ—‘জাগ্রত’—নামে পরিচিত হন।
এরপর শুরু হয় তাঁর ধর্ম প্রচারনা। তিনি মানুষকে শেখান দুঃখের কারণ, এবং কিভাবে আটটি সঠিক পথে (অষ্টাঙ্গিক মার্গ) চললে দুঃখ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। অহিংসা, মিতাচার, করুণা ও আত্মজ্ঞান ছিল তাঁর শিক্ষার মূল কথা। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে কুশীনগরে মহাপরিনির্বাণ গ্রহণ করেন তিনি। তাঁর শান্ত মুখ, সংযত জীবন ও শেষ বাক্য—"সব কিছু নশ্বর; সচেতন থেকে চেষ্টা কর"—আজও মানবজীবনের এক চিরন্তন প্রেরণা।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তাঁর বাণী মানুষকে জাগিয়ে রেখেছে, মনে করিয়ে দিয়েছে—জীবনের সত্য আলো ভেতরেই।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর