প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ মে, ২০২৫, ১:০৯ পিএম আপডেট: ০৯.০৫.২০২৫ ১:১১ PM

প্রতীকী ছবি
গরমকালে যখন তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে যায়, তখন শরীরের স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এই অবস্থায় শরীর ঘামের মাধ্যমে তাপ কমাতে না পারলে দেখা দেয় হিটস্ট্রোক, যা এক ধরনের মেডিকেল এমার্জেন্সি। হিটস্ট্রোক হলে শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার চেয়েও বেশি বেড়ে যেতে পারে এবং এর ফলে মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড, কিডনি ও পেশিতে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এটি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।
হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা। গরমে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর তরল বেরিয়ে যায়, যা পূরণ না হলে ডিহাইড্রেশন হয় এবং হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই দিনে অন্তত আট থেকে দশ গ্লাস পানি খাওয়া জরুরি। এছাড়া ওআরএস, লেবু পানি বা ফলের রস পান করা যেতে পারে। প্রচণ্ড রোদের সময়, বিশেষ করে দুপুর ১২টা থেকে ৩টার মধ্যে বাইরে যাওয়া যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। বাইরে যেতে হলে বেছে নিতে হবে হালকা রঙের, ঢিলেঢালা ও সুতি কাপড় এবং সাথে রাখতে হবে ছাতা বা টুপি।
শরীর ঠান্ডা রাখতে ঘন ঘন বিশ্রাম নেওয়া জরুরি, বিশেষ করে যারা রোদের মধ্যে কাজ করেন তাদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছায়াযুক্ত বা শীতল জায়গায় কিছুক্ষণ বসে থাকলে শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পায়। খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনতে হবে—গরমকালে অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত ভারী খাবার পরিহার করে হালকা, সহজপাচ্য খাবার খেতে হবে। তরমুজ, শসা, লাউ, কলা, পেয়ারা ইত্যাদি পানিসমৃদ্ধ ফল এবং সবজি বেশি খেলে শরীর সুস্থ থাকবে।
হিটস্ট্রোকের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বমিভাব, পেশিতে টান ধরা, অস্বাভাবিক ঘাম, ক্লান্তি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া। এসব উপসর্গ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা জায়গায় নিয়ে যেতে হবে, শরীর ঠান্ডা করতে ভেজা কাপড় দিয়ে গা মুছে দিতে হবে এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা হিটস্ট্রোকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, তাই তাদের জন্য বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। শুধু নিজের জন্য নয়, পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষায়ও সচেতন থাকতে হবে। সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললেই এই প্রাণঘাতী সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। সতর্কতা এবং সচেতনতাই হতে পারে এই গরমে বাঁচার প্রধান উপায়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর