
আধুনিক যুগে ভুল জীবনযাপন ও অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের ফলে আমাদের শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। এই কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাও থাকে। স্ট্রোক হওয়ার মাত্রাও ক্রমশ বাড়তে থাকে। প্রায় সময়ই আমরা অফিস থেকে ফেরার পথে বাইরের খাবার খেয়ে থাকি।
এসব খাবারের অধিকাংশতেই কোলেস্টেরলে পরিপূর্ণ থাকে। কিন্তু বাইরের খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
কোলেস্টেরল দুই ধরনের হয়। একটি হলো ভালো কোলেস্টেরল (এল ডি এল )এবং অপরটি হলো খারাপ কোলেস্টেরল (এইচ এল ডি)।
এলডিএল বা ভালো কোলেস্টেরলে রক্তের ঘনত্ব অনেক কম থাকে। আর এইচডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরলে রক্তের ঘনত্ব অনেক বেশি থাকে।
ইউএস সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের প্রতিবেদনে জানা গেছে, যাদের শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি তাদের হৃদরোগ ও স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেশি থাকে।
আমাদের মধ্যে অনেকেই গরমকালে পানির পিপাসা পেলে বাইরে থেকে কোল্ড ড্রিংস কিনে খেয়ে নিই।
এতে কোলেস্টেরল বাড়ার সম্ভাবনা প্রচুর থাকে, যদি আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান তাহলে কোল্ড ড্রিংকস এড়িয়ে চলতে হবে। এ ছাড়া কিছু পানীয় আছে, যেগুলো খেলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কী সেসব পানীয়, জেনে নিন।
গ্রিন টি
গ্রিনটিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, এটি খেলে আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রা অনেক কমবে। তবে এর জন্য নিয়মিত কিন্তু গ্রিন টি খেতে হবে।খালি পেটে গ্রিন টি খাওয়ার অনেক গুণ রয়েছে।
টমেটোর রস
আপনার শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে টমেটোর রস খেতে পারেন। এতে থাকা লাইকোপিন নামক যৌগ আপনার শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাবে। সেই সঙ্গে হার্ট অ্যাটাকও প্রতিরোধ করবে।
সয়া দুধ
সয়া দুধ অর্থাৎ সয়াবিনের দুধ অনেকেই খেয়েছেন। এটি খেলে আপনার শরীর সুস্থ থাকবে। এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ খুব কম। এ ছাড়া রয়েছে ভিটামিন ডি। এর ফলে এটি আপনার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখবে।
বেরি স্মুদি
বেরি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সমৃদ্ধ উৎস এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। স্ট্রবেরি, রাস্পবেরি, ব্লুবেরি এবং ব্ল্যাকবেরির মতো অনেক বেরি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইবারে ভরপুর থাকে। প্রতিদিন লো-ফ্যাট দুধের সঙ্গে এক মুঠো বেরি কোলেস্টেরলের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সাহায্য করে।
কমলা লেবু
কমলা লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে, তা ছাড়া থাকে পেকটিন ও লেমনয়েড। তাই প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস কমলালেবুর রস খেতে পারেন।
আপেলের রস
আপেলের রস খেতে পারেন। এটি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুব ভালো। এটি খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমবে অনেক তাড়াতাড়ি। এ ছাড়া ওজন থাকবে নিয়ন্ত্রণে। এগুলো খেলে আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখবে।
নারকেল দুধ
নারকেলের ভেতরের সাদা অংশ থেকে দুধ বানানো হয়ে থাকে এবং ঘরেই এই দুধ বানানো সম্ভব। এ ছাড়া প্যাকেটেও কিনতে পাওয়া যায়। ১ কাপ অর্থাৎ ২৪০ মিলি নারকেলের দুধে রয়েছে ৪৬ ক্যালরি, ১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট ও ৪ গ্রাম চর্বি। প্রোটিন না থাকলেও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ দুধের চেয়ে এতে চর্বির পরিমাণ অনেক বেশি। তবে এর মিডিয়াম চেইন ট্রাইগ্লিসারাইড হৃদযন্ত্রের জন্য খুবই উপকারী। এই মিডিয়াম চেইন ট্রাইগ্লিসারাইড ফ্যাটি অ্যাসিড, রক্তে এইচডিএল, অর্থাৎ ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ