
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্রলীগ ও আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের হামলার ঘটনায় ১৩০ জনের নাম উল্লেখসহ ৭০-৮০ জন অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আজ সোমবার (৫ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা আশিকুর রহমান ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ৪ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় গেটে ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী সাধারণ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এর আগের দিন ৩ আগস্ট ‘হাসিনার আস্থা’ ব্যানারে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের গালাগালি করে এবং পরদিন রাতে ধারালো অস্ত্র ও গুলিসহ সরাসরি হামলায় অংশ নেয়।
মামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জাকিবুল হাছান রনিকে এক নম্বর আসামী দেয়া হয়। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইব্রাহিম খলিল, সাবিক আহমেদ, নজরুল ইসলাম বাবু, বর্তমান সভাপতি আল মাগমুদ কায়েস, সাবেক সাধারন সম্পাদক রানা, রাকিবুল ইসলাম, আপেল মাহমুদ, বর্তমান সাধারন সম্পাদক রিয়েল সরকার। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোশাররফ শবনম, হীরক মুশফিক,তারিকুল ইসলঅম, ড. সেলিম আল মামুন, ড. উজ্জল কুমার প্রধান, ড. নজরুল ইসলাম,সঞ্জয় মুখার্জী, ড.শফিকুল ইসলাম, নাহিদুল ইসলাম, রেজোয়ন শুভ্র, মোল্লা আমিনুল, মাসুম হাওলাদার, জুয়েল মোল্লা, মাসুদ রানা, সহকর্মকর্তা কর্মচারী।
সোমবার দুপুরে বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেট নাছিমা খাতুন মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ বুরো অফ ইনভেষ্টিগেশন পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলার বাদী আশিকুর রহমান বলেন, ‘বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে হামলার ঘটনায় থানায় মামলা নিতে গড়িমসি করায় আদালতে মামলা করতে দেরি হয়েছে। আমরা ন্যায় বিচারের আশায় এ মামলা করেছি। আমি আইনশৃংখলার বাহিনীর কাছে আহবান জানাবো অতি দ্রুত সময়ের আসামীদের গ্রেফতার করে যেন আইনের আওতায় আনা হয়।’
মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আদালত মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম