প্রকাশ: সোমবার, ৫ মে, ২০২৫, ১২:৪৫ AM আপডেট: ০৫.০৫.২০২৫ ১২:২৭ PM

ডায়াবেটিস, একসময়ে বিরল রোগ হিসেবে পরিচিত হলেও, আজ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তবতা এই রোগ। বংশগত ধারা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অনিয়মিত জীবনযাপন ও মানসিক চাপ এ রোগের মূল কারণ। যদিও ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিকিৎসকের পরামর্শ ও ওষুধের প্রয়োজন পড়ে, তবে প্রাকৃতিক কিছু নিয়ম মেনে চললে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
প্রথমেই আসা যাক খাদ্যাভ্যাসে। খাবারের প্রতি সচেতনতা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। প্রক্রিয়াজাত ও চিনি-সমৃদ্ধ খাবার অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে। তার বদলে খাদ্যতালিকায় যুক্ত করতে হবে কম শর্করাযুক্ত শাকসবজি, গোটা শস্য, বাদাম ও আঁশযুক্ত খাবার। করলা ও নিমপাতার রস দীর্ঘদিন ধরেই ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে কার্যকর।
প্রাকৃতিক মসলা হিসেবে দারুচিনি ও লবঙ্গ উল্লেখযোগ্য। দারুচিনি ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করে, আর লবঙ্গের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া প্রতিদিন খালি পেটে এক চামচ মেথি বীজ ভিজিয়ে খাওয়ার অভ্যাস রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।
শুধু খাবার নয়, শরীরচর্চাও এ ক্ষেত্রে সমান গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত হাঁটা, যোগব্যায়াম বা হালকা ব্যায়াম রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। যারা প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়ামে অভ্যস্ত, তাদের মধ্যে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকার হার তুলনামূলক বেশি। সেই সঙ্গে মানসিক চাপ কমানোও জরুরি। প্রতিদিন কিছুক্ষণ ধ্যান, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম কিংবা বই পড়ার মতো মন শান্ত রাখার চর্চা করলে কর্টিসল হরমোন কমে এবং তা গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
পর্যাপ্ত পানি পান করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে পানি কমে গেলে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, তাই দিনে কমপক্ষে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা দরকার। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুমও ঠিক ততোটাই জরুরি। প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম শরীরের হরমোন ভারসাম্য রক্ষা করে, যা ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায়।
সবশেষে বলা যায়, ডায়াবেটিস কোনো অভিশাপ নয়—সচেতনতা ও নিয়মিত রুটিনে জীবন গড়ে তুললেই এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণের পাশাপাশি প্রাকৃতিক উপায়ে যত্ন ও নিজের ওপর বিশ্বাসই হতে পারে সুস্থতার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর