
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বহুরিয়া ও পাথালিয়াপাড়া এলাকায় অনুমোদনহীন চারটি ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাস ও কালো ধোঁয়ায় প্রায় ১৫ একর জমির ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েকদিন পরেই এই ধান কৃষকদের ঘরে ওঠার কথা ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষতিপূরণ দাবি করলেও এখন পর্যন্ত উপজেলা কৃষি বিভাগ লিখিত অভিযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে জানা গেছে, এমএসবি, আরবিসি, বাটা এবং এইচইউবি নামের চারটি ইটভাটার আগুন নেভানোর সময় নির্গত ধোঁয়া আশপাশের ধানখেতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সাইফুল, বদু, আনন্দ রাজবংশী, বাছেদ, শরিফসহ শতাধিক কৃষকের পাঁচটি কৃষি প্রকল্পের ধান সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মির্জাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন জানান, “কৃষি বিভাগের অনুমোদন ছাড়াই এসব ইটভাটা পরিচালিত হচ্ছে। বিষাক্ত ধোঁয়ায় ধান পুড়ে যাওয়ার বিষয়ে ইউএনওকে অবহিত করা হয়েছে। কৃষকরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ইটভাটা মালিকদের কেউ কেউ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। বাটা ইটভাটার মালিক আকবর জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের কিছুটা অর্থ দেওয়া হয়েছে, তবে তিনি স্পষ্ট করে শতাংশপ্রতি কত টাকা দেওয়া হয়েছে, তা বলেননি। এমএসবি ইটভাটার মালিক ফরিদ জানান, তিনি ১২ একর জমির জন্য ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন। ৫৩৯ শতাংশ জমির জন্য তিনি শতাংশপ্রতি ৫০০ টাকা এবং কিছু জমির জন্য ২০০ টাকা করে দিয়েছেন।
তবে কৃষকদের দাবি, প্রদত্ত ক্ষতিপূরণ আসল ক্ষতির তুলনায় নগণ্য। অনেক কৃষক এখনও কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ পাননি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল জেলা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বহুরিয়া ও গোড়াই ইউনিয়নের তিন ফসলি জমিতে আরবিসি, বাটা, এমএসবি, এইচইউবি, বিএন্ডবি, রান ও সান নামের সাতটি ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে। এসব ইটভাটার কোনো বৈধ অনুমোদন নেই। পরিবেশ অধিদপ্তর একাধিকবার জরিমানা, চিমনি ভেঙে ফেলা এবং ভাটা বন্ধের নির্দেশ দিলেও মালিকরা অস্থায়ী চিমনি বসিয়ে ইট প্রস্তুত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। সর্বশেষ ৬টি ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মিয়া বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করছি।”
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর