প্রকাশ: শুক্রবার, ২ মে, ২০২৫, ৭:১৫ পিএম আপডেট: ০২.০৫.২০২৫ ৮:০৯ PM

প্রতিবারই ট্রাম্পের শাসন আমলে যুক্তরাষ্ট্র তার পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন আনে। “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির আওতায় বৈদেশিক সাহায্যের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেন তিনি। এই সিদ্ধান্তে এবার সরাসরি প্রভাব পড়েছে কক্সবাজারে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অনুদান ও সহায়তা কমিয়ে দেওয়ায় চিকিৎসা ও খাদ্যসংকটে পড়েছে প্রায় ১০ লাখ শরণার্থী।
আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাহায্য কমে যাওয়ায় কক্সবাজারে একের পর এক হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে চিকিৎসা ও ওষুধের ঘাটতিতে সবচেয়ে বেশি ভুগছেন বৃদ্ধ, শিশু ও গর্ভবতী নারীরা।
ডাক্তার ১৫ দিনের ওষুধ দিলেও এখন ১০ দিনের বেশি পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে নাজির আহমেদ নামে শিবিরের এক বৃদ্ধ। তিনি আরো বলেন, শ্বাসকষ্ট আর প্রেসারের সমস্যায়ও ভুগছেন তিনি।
শিবিরের আরেক বাসিন্দা আমিনা খাতুন বলেন, ব্যথায় ঘুমাতে পারি না। ওষুধ না পেলে হয়তো বাঁচব না।
ইতোমধ্যে একাধিক চিকিৎসা কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কিছু হাসপাতালে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নের সাইনবোর্ড রয়েছে। তবে বাস্তবে সেই অনুদান এখন অনেকটাই বন্ধ।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গারা। তাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে জোগান দিত যুক্তরাষ্ট্র। তবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কমিয়ে দেন আগের অনেক বৈদেশিক সহায়তা। সেই ধারা দ্বিতীয় মেয়াদেও অব্যাহত রেখেছে ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তারা রোহিঙ্গা সংকটে এখনো আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। তবে সাহায্য সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে এই অর্থও। ফলে আগামী দিনগুলোতে চুরি, মানবপাচার, সহিংসতা এবং অপরাধের আশঙ্কা আরো বেড়ে যাবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে জাতিসংঘের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, সহায়তা হ্রাস পেলে শিশু, গর্ভবতী নারী ও প্রবীণদের মধ্যে বেড়ে যেতে পারে অপুষ্টি ও মৃত্যুর হার।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইজেপি