
মাগুরা সদর উপজেলার কুচেমোড়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সদস্য ও কাউন্সিল সদস্য ইমরোজ আলীসহ প্রায় দেড় ডজন আওয়ামী লীগ নেতা এখন বিএনপির নেতা হয়ে উঠার চেষ্টায় মরিয়া।
স্থানীয়রা জানান, কুচেমোড়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ২০১৮ ও ২০১৯ সালের আওয়ামী লীগের কমিটির সহ সভাপতি হারুন আর রশিদ, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ১ মঞ্জুর মোল্লা, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ২ রুহুল আমীন, সাংগঠনিক সম্পাদক ২ সাহারিয়ার, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক গোলাম সারোয়ার, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক বিএম শহিদুজ্জামান, সদস্য মনজুর হোসেন, লেলিন মোল্লা, নাসিরুল ইসলাম, মোঃ রবিউল ইসলাম, রেবেকা, মোঃ ছাকাওয়াত মোল্লা ও কাউন্সিল সদস্য নাজমুল মোল্লা, নাজিম মোল্লা, আজিজুল বিশ্বাস, মোঃ ইমরোজ আলী ও মো: আলম হোসেনসহ আরো কিছু নেতার উঠা বসা ছিল সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে। এলাকায় দাঁপিয়ে বেড়াতেন তারা আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয়ে। তবে এখন বিএনপি নেতা পরিচয়ে এলাকা মাতিয়ে বেড়াচ্ছে এই সব আওয়ামী লীগ নেতারা। সম্প্রতি বিএনপির নবায়ন ফর্ম কিনেছে এসব নেতা।
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভোল পাল্টে তারা হয়ে গেছেন বিএনপির নেতা।
মাগুরা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ড. শ্রী বিরেন শিকদারের সঙ্গেও ছিল তাদের সখ্যতা।
এবিষয়ে কুচেমোড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মনি কুমার বিশ্বাস বলেন, 'কুচেমোড়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড এর উপদেষ্টা সদস্য ইমরোজ আলী সহ এরা সবাই আওয়ামীলীগ এর নেতা কর্মী। আর এই ২০১৮ ও ২০১৯ সালের দুইটা কমিটি আমার অনুমোদিত কমিটি।'
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইমরোজ আলী বলেন, সব সাজানো। আমি আওয়ামী লীগ এর নেতা বা কর্মী ছিলাম না। আমি কুচেমোড়া ইউনিয়নের সাবেক যুবদলের সদস্য ছিলাম। এখন নবায়ন ফর্ম তুলে নতুন সদস্য হয়েছি।
এ ছাড়া অভিযুক্ত বাকিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কাউকেই পাওয়া যায়নি।
মাগুরা জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি নাজমুল ইসলাম বলেন, কোনদিন বিএনপির কোনো কর্মসূচীতে দেখা যায়নি। এতদিন তাদের আওয়ামী লীগের সাথেই দেখা গেছে। এখন হঠাৎ পরিচয় দেন বিএনপির নেতা হিসেবে। এমন সুবিধাবাদী লোক বিএনপিতে আসলে বিএনপির বদনাম হবে।
কুচেমোড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সাইমুন হোসেন বলেন, এরা আমাদের দলের কেউ না। বিএনপির কোনো অঙ্গ সংগঠনেও তাদের কোনো পদ নেই। বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে অপকর্ম করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ছাত্র-জনতাকে হত্যার ঘটনায় জড়িত আওয়ামী লীগের এসব লোকজন এখন বিএনপিতে প্রবেশের চেষ্টা করছে। এদের বিষয়ে আমরা সতর্ক আছি।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ