প্রকাশ: রবিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৫, ৮:৩৭ পিএম

গত সপ্তাহে খুচরা পর্যায়ে যে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, দুই-এক দিনের ব্যবধানে সেই পেঁয়াজ খুচরা পর্যায়ে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারী এবং আড়ৎ পর্যায়ে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খুচরা পর্যায়েও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে রোববার ঢাকাসহ সারাদেশে পেঁয়াজের পাইকারি ও আড়ৎ পর্যায়ে বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। শুধু রাজধানীতেই ৬টি টিমের মাধ্যমে বাজার তদারকি করা হয়।
অভিযানে শ্যামবাজার আলু-পেঁয়াজের পাইকারী আড়তে গিয়ে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করলেও এখন বিক্রি করা হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৫ টাকা। দাম বৃদ্ধির পেছনে কৃষকদেরকে দায়ী করেন পাইকারী ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে পেঁয়াজের হাটগুলোতে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানের কৃষকেরা নিজেরা ঢাকার বিভিন্ন আড়তে পেঁয়াজ এনে সরাসরি বিক্রি করছে। এখানে আড়তদারদের কোনো ভূমিকা নেই।
ভোক্তা অধিকারের তদারকিতে দেখা যায়, পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি করতে এবং পাকা ক্যাশম্যামোতে কারসাজি করতে ব্যাপারি বা ফরিয়াদের কৃষক সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ভোক্তা কর্মকর্তার জেরার মুখে পড়েন এসব সাজানো কৃষকেরা। তারা কৃষক হিসেবে সঠিক কোনো তথ্য উপস্থাপন করতে পারেনি।
অভিযানের বিষয়ে ভোক্তা অধিকারের ঢাকা বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মন্ডল বলেন, ভোক্তা অধিকারের মহাপরিচালকের নির্দেশক্রমে আজ সারাদেশে পেঁয়াজের পাইকারী আড়তে তদারকি করা হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে রাজধানীর বড় পাইকারী আড়ত শ্যামবাজারে তদারকি করা হয়। এখানকার প্রত্যেকটি আড়তে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুত রয়েছে। হঠাৎ দাম বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিকতা নেই। দাম বৃদ্ধির কারসাজি বন্ধে সকল ব্যবসায়ীকে পাকা ক্যাশম্যামো দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ক্যাশম্যামোতে বিস্তারিত তথ্য থাকতে হবে। যাতে কেই কম দামে ক্রয় করে বেশি দামে বিক্রি করতে না পারে। একই সঙ্গে যারা কৃষক বলে পেঁয়াজ বিক্রি করছে তাদের বিষয়ে আমাদের নজরদারি থাকবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর