
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক, নার্স এবং সহায়ক কর্মীদের সংকট থাকায় হাসপাতালে আসা রোগীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ৩১ জন চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৯ জন। ৩১জন কর্মকর্তার মধ্যে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ৫ থেকে ৬ জন।
চিকিৎসক সংকটের কারণে প্রতিদিনই ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তব্যরতরা। অধিকাংশ সময় জরুরি চিকিৎসা কিংবা প্রসূতি সেবাও ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার (UHFPO) ১টি পদের বিপরীতে কর্মরত ১ জন। এছাড়াও আরএমও, গাইনি, মেডিসিন, এনেস্থেসিয়া, কার্ডিওলজি, চক্ষু, ইএনটি, চর্ম ও যৌন এই বিভাগগুলোতে নেই কেউ।
জানা যায়, সার্জারি, শিশু ও অর্থোপেডিক বিভাগে ১জন ও মেডিকেল অফিসার পদে ৭ জনের মধ্যে কর্মরত রয়েছে ৫ জন। শূন্য পদ ২টি এবং ডেন্টাল পদ পূর্ণ।
উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রসমূহের মধ্যে এই চারটি কেন্দ্রে (পাকুটিয়া, ভাদ্রা, গয়হাটা ও মোকনা) নেই কোনো চিকিৎসক। তবে অন্যগুলোতে ১ জন করে কর্মরত থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। হাসপাতালের ওয়ার্ডবয়, নার্স ও ক্লিনার পদেও রয়েছে দীর্ঘদিনের শূন্যতা। ফলে হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
রোগীরা অভিযোগ করেছেন, শৌচাগার ব্যবহার অনুপযোগী। এর পাশাপাশি রয়েছে সর্বত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি। খাবারের মান খুবই নিম্নমানের হওয়ায় খেতে পারেন না বলে অভিযোগ জানানো হয়েছে।
রোগীরা আরো জানিয়েছেন, হাসপাতাল থেকে ঠিকমতো ওষুধ পাওয়া যায় না। এমনকি সাধারণ রক্ত, ইউরিন, এক্স-রে কিংবা আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষা করানোর জন্য বাইরে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোতেই বাড়তি চাপ পড়ে।
নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত জনবল নিয়োগ না হলে স্বাস্থ্যসেবার মান আরও অবনতির দিকে যাবে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হাফিজুর রহমান বলেন, চিকিৎসক ও কর্মচারী সংকটের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পদ পূরণের কাজ চলছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইজেপি