
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচিতে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি বাংলাদেশের গণসংহতি প্রকাশ পেয়েছে। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট ইসলামিক আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশের সব দল, মত, চিন্তা ও দর্শনের মানুষ ফিলিস্তিনিদের পাশে আছে।’
শনিবার বিকেল ৩ টার পর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় এ কর্মসূচি, তেলাওয়াত করেন ইসলামিক স্কলার আহমদ বিন ইউসুফ। পরে প্যালেস্টাইন ও গাজা নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল মালেক।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘আজ আমরা বাংলাদেশের জনতা, যারা জুলুমের ইতিহাস জানি, প্রতিবাদের চেতনা ধারণ করি। আজকে আমরা সমবেত হয়েছি মৃত্যু ভয়হীন ফিলিস্তিনের গাজার জনগণের পাশে দাঁড়াতে।’
ঘোষণাপত্র পাঠ করেন আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। এতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা, ১৯৬৭ সালের আগের সীমান্ত অনুযায়ী ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া, এবং মানবিক বিপর্যয়ের অবসানে কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগের দাবি জানানো হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এক কাতারে দাঁড়িয়ে আজ বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিতে চাই, আমাদের মধ্যে বিভিন্ন চিন্তা, মতগত পার্থক্য, ভিন্নতা থাকতে পারে; কিন্তু মজলুম ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা, ভূমির অধিকারের দাবিতে আমরা প্রত্যেকটা বাংলাদেশের মানুষ ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে আমরা প্রত্যেকে তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছি।’
বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন খতিব আবদুল মালেক। বিকেল সোয়া ৪ টার দিকে অনুষ্ঠিত এ মোনাজাতে লাখো মানুষের চোখ ছিল অশ্রুসিক্ত।
মোনাজাতে প্রার্থনা করা হয়, ইসরায়েল ফিলিস্তিনে যে নৃশংসতা চালাচ্ছে, তা মানবতার ওপর চরম আঘাত। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, যেন তিনি নির্যাতিত মুসলমানদের রক্ষা করেন এবং ফিলিস্তিনকে স্বাধীনতার আলো দেখান।
এছাড়া গাজায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধ, আহতদের সুস্থতা, ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে পদক্ষেপ, বিশ্ব নেতাদের বিবেক জাগ্রত করা এবং নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার বিচার নিশ্চিত করার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা হয়।
এই কর্মসূচি ছিল একটি জাতীয় ঐক্যের প্রতীক, যেখানে মতের ভিন্নতা পেছনে ফেলে মানুষ একত্রিত হয়েছিল নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়াতে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম