প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৫, ৬:৩৮ পিএম আপডেট: ১১.০৪.২০২৫ ১১:৩৮ PM

কুড়িগ্রামে চিলমারীতে ভিডিও এবং ছবি তোলায় স্বদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম সাদ্দামের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ সুপার ওই সাংবাদিককে উদ্দেশ করে বলেন, ‘মিডিয়া ছুটাই দেব।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে চিলমারীর দক্ষিণ খরইয়া গ্রাম ও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের শহরের মোড় গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাহফুজুর রহমান। এ সময় স্বদেশ প্রতিদিন পত্রিকার চিলমারী প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম সাদ্দাম ছবি এবং ভিডিও করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ সুপার ওই সাংবাদিকের ফোন কেড়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। এক পুলিশ সদস্য ওই সাংবাদিকের ফোন কেড়ে নিয়ে ধারণ করা ভিডিও ডিলিট করে দেন।
এরপর ওই সাংবাদিককে উদ্দেশ করে এসপি বলেন, ‘মিডিয়া ছুটাই দেব।’
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ সুপার আসার খবর শুনে সেখানে যাই। ভিডিও ও ছবি তোলার সময় এসপি আমার ওপর চড়াও হন। সংবাদকর্মী পরিচয় পেয়ে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে আমার হাতে থাকা ফোনটি কেড়ে নিতে বলেন, এক পুলিশ সদস্য ফোনটি কেড়ে নিয়ে ছবি ও ভিডিও ডিলিট করেন।’
রমনা মডেল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম আঁশেক আকা বলেন, আমি ওই সময় একটু দূরে ছিলাম। পরে বিষয়টি ওই সাংবাদিকের কাছে শুনেছি।
এ ঘটনায় চিলমারী ও কুড়িগ্রাম জেলার সাংবাদিক নেতারা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান টিউটর বলেন, ‘কোনো সরকারি কর্মকর্তা সাংবাদিকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করতে পারেন না। এ জন্য তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। কারণ তিনি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, তার সবার সঙ্গে ভালো আচরণ করা উচিত।’
চিলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত ১০টার পরে এসপি স্যার এসেছিলেন। কিন্তু ফোন কেড়ে নেওয়ার ঘটনা আমার জানা নেই।’
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার (এসপি) মাহফুজুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে তাকে ম্যাসেজ দেওয়া হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর