প্রকাশ: সোমবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৫, ৮:১৮ পিএম আপডেট: ০৭.০৪.২০২৫ ৮:২৬ PM

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় পোস্টারের ব্যবহার না রাখার প্রস্তাবনা রেখে নির্বাচনী আচরণ-বিধির একটি খসড়া তৈরি প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেই সাথে কমিশনে অনুমোদনের পর তা সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সোমবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, আচরণ বিধিমালার খসড়া করার জন্য বসেছিলাম। যা প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। চূড়ান্ত করে খুব শিগগিরই কমিশনে উপস্থাপন করা হবে। এরপর কমিশন চূড়ান্ত করবে।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচন সংস্কার কমিশন যে প্রস্তাব দিয়েছে আমাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও নতুন নতুন বিষয়ে তা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আশা করি চমৎকার একটি আচরণবিধি হবে। বৈঠকে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনসহ নির্বাচনের ছয়টি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনার জন্য গঠন করা হয় একটি সাব কমিটির সভাও।
নির্বাচনী ব্যয় যথাসম্ভব কম রেখে পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ও মাঠ পর্যায়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে নির্বাচনি প্রচারণার নীতিমালা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন ইসি আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি জানান, এক্ষেত্রে আরপিও সংশোধনের প্রযোজন হলে তা করা হবে। ভোটের সময় শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ কঠোরতা এবং শক্তিশালী আইনি প্রয়োগের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
খসড়া আচরণবিধিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণায় পোস্টার থাকছে না বলে জানান আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব এরকমই। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের বিষয়টিও আছে। এ প্রস্তাবকে ভালোই মনে করছি। গুজব নিয়ন্ত্রণে রেখে সর্বোচ্চ কঠোরতার জন্য যে টুলসগুলো আছে সেগুলোকে শক্তিশালী করা হবে। একই সাথে দুইশ, পাঁচশ টাকা জরিমানার বিষয়গুলো আরও বাড়ানোর চিন্তা ভাবনা চলছে বলে জানান তিনি।
ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন নামে একটি রাজনৈতিক দল উচ্চ আদালতে রিট করেছে, যা শুধুমাত্র তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এছাড়া, কয়েকটি দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে এবং আগামী ২০ এপ্রিলের মধ্যে আরও কিছু দল আবেদন করবে। তিনি আরও জানান, সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণে করণিক ভুল সংশোধনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় পাঠানো হয়েছে, তবে এখনও কেবিনেট থেকে অনুমোদন মেলেনি।
আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমাদের এমন পরিকল্পনা আছে কবে কি করব। আমরা মিটিং করছি এটাও পরিকল্পনার অংশ।’
স্বদেশ প্রতিদিন/আইজেপি