প্রকাশ: সোমবার, ৩১ মার্চ, ২০২৫, ৭:০৭ পিএম আপডেট: ৩১.০৩.২০২৫ ৭:২৩ PM

মায়ের বুক খালি হওয়ার বেদনা যেন আজ ভেসে বেড়াচ্ছে নির্মমতার শিকার হওয়া শিশু আছিয়ার বাড়িতে। গ্রামের চারিদিকে যখন ঈদের আনন্দে মেতে উঠছে সব শিশু তখন নিজ সন্তান হাড়ারোর ব্যথা বুুকে নিয়ে নির্বাক হয়ে বাড়ির আঙ্গিনায় বসে খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন শিশু আছিয়ার মা। যেন শিশুর হেসে খেলে বেড়ানোর স্মৃতিগুলো আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখছেন তিনি।
আমি ঈদের সকালে ওর প্রিয় খাবার খিচুড়ি আর নুডলস রান্না করে দিতাম। আমার আছিয়া ঈদে কত আনন্দ করত। আমার আছিয়া আর কোনো দিন আমার হাতের খাবার খাবে না। আমার আছিয়া আর ঈদে মেহেদি হাতে দিবে না। ঈদে আমার আছিয়া অনেক আনন্দ করতো। আমার আছিয়া নাই, আমাগের আবার কিসের ঈদ। সোমবার (৩১ মার্চ) ঈদের দিন দুপুরে নিজ বাড়ির বারান্দায় বসে সন্তান হারানোর শোকে কাঁদতে কাঁদতে এসব কথা বলছিলেন আছিয়ার মা।
নিজ বাড়ির বারান্দায় একাকি বসে নিদারুণ কষ্টের প্রহর গুনছেন আছিয়ার মা। নির্মম পাশবিকতার শিকার হয়ে নিহত সন্তানের স্মৃতি আর শোকের বেদনাই যেন এবারের ঈদে তাদের একমাত্র সম্বল। আসিয়াকে বুকে জড়িয়ে ধরার হাহাকারে যেন বুক ফেটে যাচ্ছে। পুরনো স্মৃতি মনে করে শুধুই কাঁদছেন আছিয়ার মা।
প্রতিবেশী মোবারক খান জানান, আছিয়ার পরিবার অত্যন্ত গরিব। আছিয়ার বাবা ফেরদৌস শেখ ভ্যান চালিয়ে সংসারের চাহিদা মেটাতেন। এখন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলায় আয়ের সেই পথ ও বন্ধ। বর্তমানে তিনি ঢাকায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। আছিয়ার মৃত্যুর পর সরকারি বেসরকারি কিছু সহযোগিতা এসেছে। সেটি দিয়ে কোনো রকমে তাদের দিন চলছে। ভবিষ্যতে কিভাবে চলবে গোটা সংসার তা নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় পরেছে এই পরিবার।
বড় বোন হামিদা বলেন, ‘ঈদের আগের রাতে আছিয়ার হাতে মেহেদি রঙে দুই হাত রাঙিয়ে দিতাম। ঈদের দিন আছিয়ার সঙ্গে অনেক আনন্দ করতাম। আমরা দুই বোন একসঙ্গে ঘুরতে যেতাম। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যেতাম। সেই আছিয়া এখন আর নেই। আমার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েই তার এমন অবস্থা হলো। আমরা ওই শয়তানদের ফাঁসি চাই।’
বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় ৫ মার্চ বুধবার রাতে ৮ বছরের আছিয়া ধর্ষণের শিকার হয়। ঘটনার পর তাকে প্রথমে মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে ভর্তি কার হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ফদিরপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ১৩ মার্চ সে মারা যায়।
এ ঘটনায় হিটু শেখকে প্রধান করে চারজনের নামে মামলা করেছেন শিশুটির মা আয়েশা আক্তার। মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখ ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আসামিরা মাগুরা জেলা কারাগারে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম