মিয়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাণহানি ১৬শ ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির ঐতিহ্যবাহী নগরী ও দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দেলে কার্যত ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। প্রায় ১৫ লাখ মানুষের এই শহরটি ভূমিকম্পে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া প্রিয়জনদের বাঁচানোর আশায় স্থানীয় বাসিন্দারা খালি হাতে ধ্বংসাবশেষ সরানোর চেষ্টা করছেন।
উদ্ধারকর্মীরা শুক্রবার থেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, আন্তর্জাতিক সাহায্যও প্রবেশ করতে শুরু করেছে। তবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো এখনো সহায়তা পায়নি। নিরুপায় সাধারণ মানুষ নিজেরাই খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে বিবিসি জানায়, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষদের অসহায় আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে। ভূমিকম্পের ৩০ ঘণ্টা পর মান্দেলের একটি ১২ তলা অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে এক নারীকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে রেড ক্রসের আশঙ্কা, এখনো প্রায় ৯০ জন ওই ভবনের নিচে আটকে রয়েছেন।
চিকিৎসাসামগ্রীরও চরম সংকট দেখা দিয়েছে। হাসপাতালে নেই পর্যাপ্ত ট্রমা কিট, রক্তের ব্যাগ, অ্যানেস্থেশিয়া, প্রয়োজনীয় ওষুধ কিংবা স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকার জন্য তাঁবু।
ভূমিকম্পের পর থেকে উদ্ধারকর্মীরা বেঁচে থাকা মানুষের খোঁজ করছেন। একজন উদ্ধারকারী জানান, আমরা তখনই কাউকে উদ্ধার করতে পারি, যখন আমরা কোনো জীবিত মানুষের সাড়া পাই।
সরকার জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল মান্দেলে অঞ্চলে ১৫শ'র বেশি ভবন ধসে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট পরিস্থিতিকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে, এবং কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করতে কয়েকদিন সময় লাগবে।
এছাড়া ভূমিকম্পে রানওয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মান্দেলে বিমানবন্দর অকার্যকর হয়ে পড়েছে। জান্তা সরকার বলছে, বিমানবন্দর পুনরায় চালু করার জন্য তারা কাজ করে যাচ্ছেন।
সূত্র: রয়টার্স
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর