প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ মার্চ, ২০২৫, ৫:০৪ AM

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের মামলাগুলো হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রধান প্রসিকিউটরের বিশেষ উপদেষ্টা টবি ক্যাডম্যান।
বসনিয়া, কসোভো, রুয়ান্ডা, ইয়েমেন, সিরিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধাপরাধ মামলার অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ টবি ক্যাডম্যান বৃহস্পতিবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এই প্রস্তাব দেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ কীভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সঙ্গে কাজ করতে পারে তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়। আলোচনায় বলা হয়, কিছু অভিযুক্ত বিদেশে পালিয়ে গিয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সুরক্ষা পাচ্ছে, তাই আইসিসির কমপ্লিমেন্টারিটি নীতির অধীনে সহযোগিতা জরুরি, যাতে এই অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা যায়।
টবি ক্যাডম্যান আইসিটির আইনি কাঠামোতেও সংশোধনী আনার প্রস্তাব দেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করা, যাতে এটি আগের স্বৈরাচারী সরকারের (শেখ হাসিনার শাসন) প্রভাব থেকে মুক্ত বলে প্রতীয়মান হয়।
তিনি আরও বলেন, মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা এবং ন্যায়বিচারের সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করতে প্রক্রিয়াগত সাক্ষ্য আইন সংযোজন করা দরকার।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস আইসিটি প্রসিকিউশন টিমের কাজের প্রশংসা করেন এবং বলেন, তাদের অবশ্যই সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি জানান, বাংলাদেশ শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে, জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলা আইসিসিতে পাঠানো হবে কি না।
বৈঠকে শেখ হাসিনা সরকারের লুট করা সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও পুনরুদ্ধার করা নিয়েও আলোচনা হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর