
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, "শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের দাফন করে গেছেন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটেছে এবং এই মৃত্যু হয়েছে দিল্লিতে। মুর্দা শেখ হাসিনা কাফন ফুড়ে মাঝে মাঝে কথা বলে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছেন, কিন্তু তার এই চেষ্টা কখনো সফল হবে না।"
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজার শহরের মুক্তিযোদ্ধা গোলচত্ত্বর মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, "অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কথা দিয়েছেন ডিসেম্বরের আগেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে, কিন্তু যদি নিয়ত সাফ থাকে, তাহলে নির্বাচনের রোডম্যাপ দ্রুত ঘোষণা করা উচিত। মানুষ এই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য রক্ত দিয়েছে এবং জীবন দিয়েছে।"
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু উপদেষ্টা জনগণের বাস্তবতা এবং চাহিদা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি বলেন, "গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ, কারণ মানুষ স্বস্তিতে থাকতে চায়। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ জরুরি।"
সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, গত ১৬ বছরে বিএনপি কক্সবাজারে এত বড় সমাবেশের আয়োজন করতে পারেনি। তাই, নেতাকর্মী ও জনগণের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। কক্সবাজার জেলার ৯ উপজেলার ১৪টি সাংগঠনিক ইউনিটের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণও এই সমাবেশে যোগ দিয়েছেন।
তিনি জানিয়ে দেন, এই সমাবেশে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে, গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে উত্তরণের জন্য নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করতে এবং রাষ্ট্রে পতিত ফ্যাসিবাদের অপচেষ্টা মোকাবিলাসহ বিভিন্ন দাবি সামনে রেখে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।
সমাবেশে জেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক সাংসদ শাহজাহান চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন এবং সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামীম আরা স্বপ্নার পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক সাবেক সাংসদ লুৎফুর রহমান কাজল, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন-অর-রশীদ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর হেলাল, কেন্দ্রীয় সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদসহ জেলা, উপজেলা এবং বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
এদিন কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে টানা একযুগ পর জেলা শহরে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সমাবেশের আয়োজন হয়, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমআর