প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১২:১০ পিএম

ফুলের রাজধানীখ্যাত যশোরের গদখালীতে ফুলের দাম গতবছরের তুলনায় অর্ধেক কমে যাওয়ায় চাষিদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। একদিকে উৎপাদন বেশি, অন্যদিকে চাহিদা কম; এই পরিস্থিতি ফুল বিক্রির স্বপ্নে বড় ধাক্কা দিয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম তিনদিনে ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা প্রায় শতকোটি টাকা হলেও দাম কমে যাওয়ায় চাষিরা এখন একুশে ফেব্রুয়ারি বাজার ভালো হওয়ার আশা করছেন।
গদখালী বাজারের চাষিরা ফুল নিয়ে ভোর থেকে আসেন এবং বেচাকেনা শুরু হয়। তবে এবছর ফুলের দাম কমে যাওয়ায় চাষিরা হতাশ। মিলন হোসেন, মনিরুল ইসলাম বাবু, জালাল উদ্দিনের মতো অনেক চাষি জানান, গোলাপ ও অন্যান্য ফুলের দাম গত বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। বিশেষ করে গোলাপের দাম ৭-৮ টাকা হলেও উৎপাদন খরচ উঠছে না বলে তারা অভিযোগ করেছেন।
পাটুয়াপাড়া গ্রামের গোলাপচাষি মনিরুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘৩৬ শতক জমিতে গোলাপ চাষ করেছি। তিন হাজার গোলাপ নিয়ে এসেছি, তবে সাড়ে ১১ টাকা দরে বিক্রি করেছি।’ তবে উৎপাদন খরচ, পরিচর্যা এবং শ্রমিক খরচ মিলে ফুল বিক্রি করে লাভ হয়নি বলে জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, ফুলের সরবরাহ বাড়লেও বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় ফুলের দাম আরও কমে গেছে। গোলাপ, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, জারবেরা, গাঁদা ফুলের দাম গড়ে ৩ থেকে ১৪ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।
ফুলের দাম কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে যশোর ফুল উৎপাদক ও বিপণন সমবায় সমিতির সভাপতি আবদুর রহিম বলেন, ‘হঠাৎ গরম পড়ায় ফুল বেশি ফুটেছে, যার কারণে গ্লাডিওলাসের উৎপাদন বেশি এবং গোলাপের চাহিদা কমে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়া, ভ্যালেন্টাইন দিবসের সাথে শবে বরাত পড়ায় ফুলের ব্যবসা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা আবু তালহা আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘উৎপাদন বেশি হলেও কিছুদিন পরে দাম আবার একটু বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।’
চাষিদের এখন একুশে ফেব্রুয়ারি থেকে ভাল বাজারের প্রত্যাশা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমআর