প্রকাশ: রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১১:২২ AM

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষা নিয়ে একগুচ্ছ সুপারিশ করেছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন। কমিশনটি বিসিএস পরীক্ষা থেকে শুরু করে পদায়ন প্রক্রিয়া উন্নত করতে একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ এবং তিনটি পূর্ণ কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেছে।
শুক্রবার (৮ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে এসব সুপারিশের কথা জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিসিএস পরীক্ষার জন্য তিনটি আলাদা পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন করা হবে—পাবলিক সার্ভিস কমিশন (সাধারণ), পাবলিক সার্ভিস কমিশন (শিক্ষা), এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশন (স্বাস্থ্য)। এর মধ্যে সাধারণ সার্ভিসে নিয়োগ ও পদোন্নতির দায়িত্বে থাকবে সাধারণ কমিশন, আর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক সার্ভিসের জন্য থাকবে আলাদা কমিশন। প্রতিটি কমিশনে ৮ জন সদস্যসহ একজন চেয়ারম্যান থাকবেন।
এছাড়া, পরীক্ষার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে ৬টি আবশ্যক বিষয়, যেগুলোর মধ্যে বাংলা রচনা, ইংরেজি রচনা, প্রেসি, বাংলাদেশের সংবিধান, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, এবং সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে গণিতকে মৌলিক বিষয়ের মধ্যে রাখা হয়নি।
বিসিএস পরীক্ষার রোডম্যাপেও বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর, এপ্রিল মাসে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা এবং পরে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং নিয়োগের আদেশ গেজেটে প্রকাশ করা হবে।
এছাড়া, কমিশন লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের জন্য ন্যূনতম ৬০ শতাংশ নম্বর নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। পরীক্ষা ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ব্রেকডাউনসহ ফল প্রকাশের প্রস্তাবও করা হয়েছে।
এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন হলে, বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও আধুনিক এবং সুশৃঙ্খল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমআর