প্রকাশ: বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৪:২৪ পিএম

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও কৃষকরা ন্যায্য দামে আলু বিক্রি করতে পারবে কিনা, সেই শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। কোল্ড স্টোরেজের অভাব এবং সরকারি সহায়তার ঘাটতির কারণে কৃষকদের উদ্বেগ ক্রমশ বেড়ে চলছে।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মেঘনা উপজেলায় ৩১৩ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩৩৭ হেক্টরে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৪ হেক্টর বেশি। যদিও বানিজ্যিকভাবে আলু চাষ বাড়ছে, তবে সংরক্ষণের অভাব এবং বাজারমূল্যের অস্থিতিশীলতা কৃষকদের জন্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মির্জানগর গ্রামের আলু চাষি শাহাবুদ্দিন বলেন, "২৫০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি এবং ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি। তবে আলুর দাম নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। সরকারি সহায়তা পেলে আরো বেশি জমিতে চাষ করা যেত।"
রামনগর ছোয়ানী গ্রামের চাষি আল-আমিন জানান, "১২০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি এবং প্রতি বিঘায় ৪ টন ফলন হতে পারে। তবে কোল্ড স্টোরেজ না থাকায় বাজারে দাম কমে গেলে বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।"
দক্ষিণকান্দি গ্রামের চাষি শামীম এবং বড় নোয়াগাঁও গ্রামের নাসির উদ্দিনও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, "আলুর ফলন ভালো হলেও সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় দাম কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।"
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ শাহে আলম বলেন, "মেঘনায় আলু চাষে কোনো সরাসরি সরকারি সহায়তা নেই। তবে কোল্ড স্টোরেজের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়েছি এবং এখনও জানাচ্ছি।"
এছাড়া, স্থানীয় চাষিরা মনে করেন যে, সরকারি প্রণোদনা এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে মেঘনায় আলু চাষ আরও বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারিত হতে পারবে এবং কৃষকরা তাদের উৎপাদিত আলুর ন্যায্য মূল্য পেতে সক্ষম হবেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমআর