
সংগৃহীত ছবি
শিগগিরই নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর আওতায় আসছেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। এমন আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তবে নতুন বেতনকাঠামো কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাননি তিনি।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নতুন পে স্কেলের আওতায় আনার বিষয়টি নিশ্চিত করে রোববার (১ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট দেন শিক্ষামন্ত্রী। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কবে থেকে বর্ধিত বেতন পাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে এ নিয়ে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর করে পরিপত্র জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এর ফলে সরকারি কর্মচারীরা অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে আগের তিন মাসের বকেয়া বেতনও পেয়েছেন। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সারা দেশে বর্তমানে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীন প্রায় চার লাখ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন পৌনে দুই লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।
বেতন-ভাতা বাড়বে যেভাবে
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার একটি অংশ সরকার মাসিক অনুদান হিসেবে দিয়ে থাকে। এ ব্যবস্থার নাম এমপিও (মান্থলি পে অর্ডার)। এর আওতায় শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের শতভাগ সরকারি অনুদান হিসেবে পান। পাশাপাশি চিকিৎসা ভাতাসহ নির্ধারিত কিছু ভাতাও দেওয়া হয়।
গত বছর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া মূল বেতনের ১৫ শতাংশ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে তাঁরা মাসে এক হাজার টাকা করে বাড়িভাড়া পেতেন।
তবে যেসব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় বেশি, সেগুলো এমপিওর বাইরে থেকেও শিক্ষক-কর্মচারীদের অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে থাকে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের সে ধরনের আর্থিক সক্ষমতা নেই। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের সময়সীমা তাঁদের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়িভাড়াও বাড়বে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধরন, স্তর ও বিষয় অনুযায়ী শিক্ষকদের বেতন গ্রেডে ভিন্নতা রয়েছে। নতুন কাঠামোতেও তাঁরা নিজ নিজ বর্তমান গ্রেড অনুযায়ী বেতন পাবেন। উদাহরণ হিসেবে, বেসরকারি কলেজের প্রভাষকেরা সরকারি কলেজের প্রভাষকদের মতো নবম গ্রেডে মূল বেতন পাবেন।
সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা
নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোয় আগের মতোই ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে। গ্রেডভেদে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। ২০২৭ সালের মধ্যে তিন ধাপে মূল বেতন কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকরের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো জানানো হয়নি। শিক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর এখন সংশ্লিষ্টদের অপেক্ষা, কবে নাগাদ তাঁদের বর্ধিত বেতন কার্যকর হবে।