প্রকাশ: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৫০ পিএম আপডেট: ০১.১১.২০২৬ ১:০৬ PM

এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ১৯ বছর বয়সী হৃদয়। শেষ পর্যন্ত নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি। মৃত্যুর পর তাঁর পাশে পাওয়া গেছে একটি আবেগঘন চিরকুট। সেখানে পরীক্ষার ফল নিয়ে হতাশার কথা জানানোর পাশাপাশি বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ১ নম্বর ধানদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ সারসা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত হৃদয় ওই গ্রামের রইচউদ্দীন সরদারের ছেলে। তিনি পাটকেলঘাটা হারুনুর রশিদ কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদ্য প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে অকৃতকার্য হওয়ার পর থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন হৃদয়। পরীক্ষার ফল নিয়ে হতাশা ও মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন তিনি। শনিবার দুপুরে পরিবারের সদস্যদের অজান্তে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দেন তিনি। পরে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মরদেহের পাশ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। এতে হৃদয় লিখেছেন, ‘আজকের রেজাল্টের জন্য আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারছি না। আমার আব্বু-আম্মা আমার জন্য কত তাদের নিজেদের সুখ-শান্তি বিসর্জন দিয়েছে। আমিও অনেক কষ্ট করেছি আজকের রেজাল্টের জন্য। বুঝতে পারছি না স্যারের ভুলে কেমন আজকে এমন হলো। আব্বু-আম্মা আমাকে ক্ষমা করে দিও।’
হৃদয়ের এমন মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যে ছেলেকে ঘিরে পরিবারের অনেক স্বপ্ন ছিল, তাঁর এমন অকাল মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছেন স্বজনেরা।
স্থানীয় বাসিন্দা শেখ ইয়াসিন বলেন, ‘হৃদয়ের মৃত্যুর খবর শোনার পর পুরো গ্রাম শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। হৃদয় অত্যন্ত ভালো ছেলে ছিল। তার মরদেহের পাশ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে সে নিজের পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে হতাশার কথা লিখে গেছে।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাটকেলঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক তদন্ত ও উদ্ধার করা চিরকুট পর্যালোচনা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। থানায় অপমৃত্যু (ইউডি) মামলার প্রস্তুতি চলছে