প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫০ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকায় হবিরবাড়ী ইউনিয়নের সোনার বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের লাখ লাখ টাকার নির্মাণসামগ্রী গোপনে নামমাত্র মূল্যে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্কুলশিক্ষকদের বিরুদ্ধে। আবার সেই টাকা দিয়ে শিক্ষকরা আনন্দভ্রমণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্য নিলাম ছাড়াই আনুমানিক ৫-৬ লাখ টাকার ইটের খোয়া ও রড মাত্র ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয় স্কুলেরই আরেক শিক্ষকের কাছে। সেই মালামাল পাঠানো হয় ওই শিক্ষকের শ্বশুরবাড়িতে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিধি মোতাবেক মালামাল বিক্রি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রধান শিক্ষক।
স্থানীয় কালাম খান জানান, এখানে প্রায় ৬-৭ লাখ টাকার মালামাল ছিল। স্কুলের শিক্ষকরা কীভাবে সেগুলো বিক্রি করেন? মালামাল বিক্রি করতে কমিটির রেজুলেশন এবং ডাকের মাধ্যমে বিক্রি করতে হয়। আমি এর সঠিক তদন্ত চাই।
মালামাল বহনকারী চালক জানান, আমি সাত গাড়ি খোয়া ও কিছু রড মল্লিক স্যারের বাড়ি মুলাইদ, শ্রীপুরে নিয়ে যাই।
স্কুলের সাবেক শিক্ষক জানান, আমি শুনেছি, স্কুলের মাল চুরি করে বিক্রি করা হয়েছে। পরে প্রধান শিক্ষককে ফোন করি। তিনি বলেন, শর্ট রেজুলেশন করে মাল বিক্রি করা হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা জানান, আমরা মসজিদের জন্য মাল কিনতে চেয়েছিলাম। পরে আমাদের না জানিয়ে শিক্ষকরা মাল বিক্রি করেছেন। আমরা এর সঠিক তদন্ত চাই।
সহকারী শিক্ষক মুজাহিদুল ইসলাম মল্লিক বলেন, আমি সর্বোচ্চ মূল্য দিয়ে কিনেছি। মালের ডাক হয়েছে, তারপর নিয়ম মেনে কিনেছি। আমি শ্বশুরবাড়িতে নয়, আমার নিজের বাড়িতে নিয়েছি।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম মানিক বলেন, বিদ্যালয়ের অব্যবহৃত ও অতিরিক্ত মালামালগুলো যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং বিধি মোতাবেকই বিক্রি করা হয়েছে। এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।
তদন্ত করে অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ