
বান্দরবানে সেগুনবাগান বিক্রির কথা বলে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা গ্রহণ, চুক্তি অনুযায়ী বাগান বুঝিয়ে না দেওয়া এবং পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গেলে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগে রতন কান্তি দে ওরফে রতন দে-কে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে বান্দরবানের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার হোসেনের আদালত এ নির্দেশ দেন বলে বাদীপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় মো. কামাল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে রতন কান্তি দে, মো. আকাশ, ইলা রানী তঞ্চঙ্গ্যা ও সুপ্রিয়া তঞ্চঙ্গ্যাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রের বিবরণ অনুযায়ী, বান্দরবান সদর উপজেলার ৩১৩ নম্বর মৌজায় প্রায় পাঁচ একর তৃতীয় শ্রেণির জমিতে থাকা সেগুনবাগানের গাছ বিক্রির বিষয়ে বাদীর সঙ্গে অভিযুক্তদের আলোচনা হয়। বাগানে আনুমানিক ৫০০টি সেগুনগাছ রয়েছে জানিয়ে সেগুলো বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ প্রস্তাবের ভিত্তিতে বাদীর সঙ্গে আর্থিক লেনদেন হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, বাগান কেনার বিষয়ে আশ্বস্ত করার পর অভিযুক্তদের বিভিন্ন সময়ে নগদ অর্থ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা প্রদান করেন তিনি। অভিযোগপত্রে ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি, ৬ মার্চ, ২০ এপ্রিল, ২৫ মে, ২ জুন ও ২২ জুনসহ বিভিন্ন তারিখে অর্থ লেনদেনের বিবরণ উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তদের আশ্বাসে বাদী মোট ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেন। পরবর্তী সময়ে বাগান বিক্রির বিষয়ে সমঝোতা এবং টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি বাগানের গাছও বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, পাওনা টাকা ফেরত চাইলে বাদীকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। একপর্যায়ে ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে বান্দরবান বাসস্টেশনের পাশের একটি টিকিট কাউন্টারে বাদী ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তাঁকে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় বাদীর সাংবাদিক পরিচয় নিয়েও কটূক্তি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শোয়েবুল ইসলাম জানান, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার হোসেনের আদালত রতন দে-কে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৬ অক্টোবর তৎকালীন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের নাম ভাঙিয়ে বান্দরবানে শিক্ষকের চাকরি দেওয়ার কথা বলে চাঁদাবাজির মামলায় সাংবাদিক পরিচয়ধারী রতন দে শাওনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই সময় মাইটিভির প্রতিনিধি পরিচয়ে লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের বাসিন্দা শাহেদুল ইসলামের কাছ থেকে তিন লাখ ২৯ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ