
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জীবনমান পরিবর্তন ও কৃষি-অর্থনীতির উন্নয়নের লক্ষ্যে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার দায়িত্ব নিয়ে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, আগামী জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে পদ্মা ব্যারেজের উদ্বোধন হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ এর সুফল পাবেন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া কাঞ্চনপার্ক এলাকায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প পরিদর্শন ও কারিগরি বিষয়ে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অপেক্ষায় আছি, কবে নাগাদ প্রকল্পটির কাজ শুরু করতে পারব। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও দেশের তিন ভাগের দুই ভাগ জনগোষ্ঠী এ প্রকল্পের সুবিধা পাবে। প্রায় সাত কোটি মানুষ উপকৃত হবে। তারেক রহমান সাহসী উদ্যোগ নিয়েছেন। এটি একটি মেগা প্রকল্প। নির্বাচনের আড়াই মাসের মাথায় একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।’
তিনি বলেন, নদীপাড়ের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে জীবনযাপন করছেন। তাঁদের জীবনমানের উন্নয়ন এবং দেশের স্বার্থেই পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া জীবদ্দশায় ২০০৪ সালে প্রকল্পটির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ২০১৬ সালে পদ্মা ব্যারেজের কাজ শেষ হবে বলে আশা করেছিলাম। একটি নির্বাচিত সরকারের পক্ষেই বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। অনির্বাচিত সরকারের পক্ষে তা সম্ভব হয় না। আমাদের স্বার্থ দেশের স্বার্থ। দেশের ও জনগণের স্বার্থে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প হাতে নিয়েছি।’
প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। প্রকল্পের কাজ শেষ করতে সরকার দায়িত্ব নিয়ে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
সভায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের পরিচালক হাসান মাহমুদ বলেন, পাবনার সুজানগর থেকে রাজবাড়ী জেলার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পাবনা, রাজবাড়ীসহ ১৯ জেলার চিত্র পাল্টে যাবে। দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পদ্মা ব্যারেজ নির্মিত হলে প্রায় আট মাস বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্যও প্রকল্পটি সুফল বয়ে আনবে। বর্ষা মৌসুমে ব্যারেজের ৭৮টি গেট খোলা রাখা হবে। এতে পানিপ্রবাহ ব্যবস্থাপনা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষি, সেচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পানি ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রকল্প পরিচালক।
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের পরিচালক হাসান মাহমুদের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদী, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সেলিম রেজা হাবিব, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানা রুমা, পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আবু আশরাফ এবং সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদুজ্জামান, বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনাল্ড চাকমাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ