প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩০ পিএম

দিনাজপুরের খানসামায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আমন ধানের ফসল নষ্ট, বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের অভিযোগ তুলেছে একটি পরিবার। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে খানসামা মডেল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাবেক খানসামা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. আতাউর রহমানের ছেলে বিপ্লব।
লিখিত বক্তব্যে বিপ্লব অভিযোগ করেন, গত ১৬ অক্টোবর ভোরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁদের আমন ধানের ফসল নষ্ট করা হয়। এতে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। এ ঘটনায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথাও লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, একই দিন সন্ধ্যায় একদল লোক তাঁদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখায় এবং দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় বাড়ির দরজা-জানালা, আসবাবপত্র, নলকূপ ও বিদ্যুতের মিটার ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি একটি টেলিভিশন, স্বর্ণালংকার ও নগদ দুই লাখ টাকা লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও তাঁদের বাড়িতে ভাঙচুর ও হয়রানির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় পরিবারের কয়েকজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পেছনে অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় জামায়াত নেতার নাম উল্লেখ করে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা নিয়েও বক্তব্য দেওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন ১৭ ও ১৮ অক্টোবর জামিন পেয়েছেন। এ তথ্যের স্বাধীন যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়। তবে ফসল নষ্ট, হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা যাবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ