
দেশকে অস্থিতিশীল করা, সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি এবং ধর্মীয় বিভেদ ও সংঘাত ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে চলতি ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই একটি গৃহযুদ্ধতুল্য পরিস্থিতি সৃষ্টির গভীর চক্রান্ত চলছে বলে মন্তব্য করেছেন পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন চৌধুরী।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে পটুয়াখালী জেলা পরিষদের আয়োজনে পরিষদ মিলনায়তনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সাবেক এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ষড়যন্ত্রকারীদের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশে কৃত্রিম অস্থিতিশীলতা তৈরি করা এবং সুযোগ বুঝে শেখ হাসিনাকে পুনরায় দেশে ফিরিয়ে এনে ক্ষমতায় বসানো। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাতে নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারে, সেজন্য বিভিন্ন দিক থেকে অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে দেশপ্রেমিক জনগণ ও সরকারের সচেতনতায় এসব চক্রান্ত কখনোই সফল হবে না।”
দেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও স্পর্শকাতর কয়েকটি ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি জানান, দুর্গাপূজার প্রাক্কালে পুলিশ ‘দেবাশীষ’ নামের এক ব্যক্তিকে এবং পরবর্তীতে ‘গুলশান আরা’ নামের দুবাইপ্রবাসী এক নারীকে গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্ত ওই নারী দেশে ফিরে সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও সংঘাত সৃষ্টির পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
আলতাফ হোসেন চৌধুরী আরও অভিযোগ করে বলেন, “টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া এবং রূপসা থেকে রূপসা-পাথুরিয়া পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানের মন্দিরে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের একটি সুসংগঠিত নীলনকশা তৈরি করা হয়েছিল। এসব অপকর্ম ঘটিয়ে তার দায়ভার সরকারের ওপর চাপানো এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সরকারকে দুর্বল ও ব্যর্থ হিসেবে চিত্রায়িত করাই ছিল ষড়যন্ত্রকারীদের মূল উদ্দেশ্য।” এই পরিস্থিতিতে দেশের স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সার্বক্ষণিক সতর্ক ও সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে, পটুয়াখালী-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এটিই ছিল জেলা পরিষদে আলতাফ হোসেন চৌধুরীর প্রথম আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন। সকালে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে জেলা পরিষদের প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি তাঁকে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও শুভেচ্ছা জানান।
পরবর্তীতে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় পটুয়াখালী জেলার সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, জেলা পরিষদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং দ্রুত নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, “পটুয়াখালী জেলার সুষম ও সার্বিক উন্নয়নে জেলা পরিষদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পূর্ণ নিষ্ঠা, সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে নিজ নিজ অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
পটুয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান সোহেল, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মাকসুদ আহমেদ বায়েজিদ পান্না, জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওয়াহিদ সরোয়ার কালাম এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের পটুয়াখালী জেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শরীফ মো. সালাহউদ্দিন।
এ ছাড়া সভায় বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং জেলা পরিষদের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ