
ব্রিজের নিচে নারীর মরদেহ, মেয়ের দাবি মায়ের, সন্তানরা বলছেন অন্য কথা
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার একটি ব্রিজের নিচে পানিতে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত মরদেহের পরিচয় নিয়ে দেখা দিয়েছে জটিলতা। খুকি বেগম নামের এক মায়ের দাবি, মরদেহটি তাঁর মেয়ে আঞ্জুর।
অপরদিকে, ওই নারীর সন্তানরা বলছেন, এটি তাঁদের মায়ের মরদেহ নয়। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ও ভাতগ্রাম ইউনিয়নের মধ্যবর্তী দুর্গাপুর সড়কের একটি ব্রিজের নিচে পানিতে মরদেহটি ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তাঁরা থানা-পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া নারীর বয়স আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ বছর। তবে তাঁর পরিচয় ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের বল্লমঝাড় গ্রামের আনছার আলী ও খুকি দম্পতির দাবি, গত ৯ অক্টোবর শুক্রবার তাঁদের মেয়ে আঞ্জু বেগম নিখোঁজ হন। তিনি একই উপজেলার সোনাডাঙ্গা গ্রামের সাজু মিয়ার স্ত্রী। মরদেহ উদ্ধারের পর আঞ্জু বেগমের মা খুকি বেগম দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি তাঁর নিখোঁজ মেয়ের।
তবে এ দাবির সঙ্গে একমত নন আঞ্জু বেগমের মেয়ে শাপলা বেগম ও ছেলে আমিনুল ইসলাম। তাঁদের দাবি, ব্রিজের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি তাঁদের মায়ের নয়।
এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম হাবিবুল ইসলাম বলেন, মরদেহের পরিচয় শনাক্ত ও মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনের জন্য অনুসন্ধান চলছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহটিকে এক মা তাঁর মেয়ের বলে দাবি করলেও ওই নারীর সন্তানরা বলছেন, এটি তাঁদের মায়ের মরদেহ নয়।
তিনি আরও বলেন, প্রায় নয় দিন আগে আঞ্জু বেগম নামে এক নারী নিখোঁজ হলেও এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থেকেই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি। মরদেহের পরিচয় শনাক্তকরণ ও মৃত্যুর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে। এ কাজে পুলিশের পিবিআই (পুলিশ পরিদর্শন দল) মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একদিকে নিখোঁজ মেয়েকে ফিরে পাওয়ার এক মায়ের অপেক্ষা, অন্যদিকে পানিতে ভেসে ওঠা মরদেহের পরিচয় নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে ঘটনাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য ও উদ্বেগ। তবে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নিখোঁজ আঞ্জু বেগমের কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ