
রাত-দিন মাঠে সক্রিয় এসিল্যান্ড অভ্র জ্যোতি বড়াল, জনসেবায় গুরুত্ব
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ, জনস্বার্থ রক্ষা এবং ভূমিসেবা কার্যক্রমে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভ্র জ্যোতি বড়াল। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় অভিযান, অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন বন্ধে রাতের অভিযান, ফুটপাতের অবৈধ দখল অপসারণ এবং জনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাঁর তৎপরতা স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা, বিনয়ী আচরণ এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার বিষয়গুলো তাঁর ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি ভূমি অফিসে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি কমানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
মৎস্যসম্পদ রক্ষায় অভিযান
সরকারের চলমান মৎস্য সংরক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাকেরগঞ্জের নদ-নদীতে অভিযান পরিচালনা করছে প্রশাসন। মা ইলিশ রক্ষায় নিষিদ্ধ সময়ে অবৈধ মাছ ধরা প্রতিরোধ, নিষিদ্ধ জাল জব্দ এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের মতো কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভ্র জ্যোতি বড়াল। গত ৯ অক্টোবর কারখানা ও তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে আনুমানিক ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ২৬টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। এ সময় একজনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ার তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা করা গেলে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নদীর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
গভীর রাতে অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান
কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে রাতেও অভিযান পরিচালনা করছেন তিনি। গত ১০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে বাকেরগঞ্জের ভরপাশা ইউনিয়নে নদীতীরবর্তী কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে একজনকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় বলে প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া গারুড়িয়া ইউনিয়ন ও পাণ্ডব নদী এলাকায় পৃথক অভিযানে অবৈধ মাটি বহনে ব্যবহৃত পন্টুন ও মাটি কাটার যন্ত্র জব্দ এবং পাঁচজনকে মোট পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। রাতের আঁধারে অবৈধভাবে মাটি কাটা ও বালু উত্তোলনের মতো কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রশাসনের এমন তৎপরতা কৃষিজমি, নদীতীর ও পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এসব কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে স্থানীয় জনস্বার্থ সুরক্ষায় সহায়ক হতে পারে।
ফুটপাত দখলমুক্ত ও জনশৃঙ্খলা রক্ষায় উদ্যোগ
জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা এবং সড়ক ও ফুটপাতের অবৈধ দখল অপসারণ নগর ও উপজেলা পর্যায়ের জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কাজ। স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাকেরগঞ্জে ফুটপাতের অবৈধ দখল অপসারণেও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মাদক ও জুয়ার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের তৎপরতার কথাও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচিত হচ্ছে। এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট অভিযানের তথ্য, মামলা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ যাচাই করে প্রকাশ করা হলে প্রতিবেদনের তথ্যগত ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত নজরদারি ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা আরও কার্যকর হতে পারে।
ভূমি অফিসে সেবার মান নিয়ে ইতিবাচক প্রত্যাশা
ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দালালনির্ভরতা হ্রাস করা জনবান্ধব ভূমি প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বাকেরগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের আশপাশে দালালদের আনাগোনা আগের তুলনায় কম বলে মনে হয় এবং সেবার মান নিয়ে বড় ধরনের অসন্তোষের কথাও তাঁদের মধ্যে তেমন শোনা যায় না। তবে সেবার মান সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য সেবাগ্রহীতাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, অভিযোগ নিষ্পত্তির তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি গুরুত্বপূর্ণ। ভূমিসংক্রান্ত সেবা দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্তভাবে নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়বে। একজন সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্বশীলতা শুধু অভিযান পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সাধারণ মানুষের কথা শোনা, বিনয়ের সঙ্গে আচরণ করা, আইন অনুযায়ী সেবা নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহি বজায় রাখাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
জনসেবা ও দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকার
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাকেরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভ্র জ্যোতি বড়াল বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে জনগণের সেবা নিশ্চিত করা আমার প্রধান দায়িত্ব। সাধারণ মানুষ যেন ভূমি অফিসে এসে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন এবং স্বচ্ছ ও দ্রুত সেবা পান, সে বিষয়ে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ রক্ষা, অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন প্রতিরোধ, জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইন অনুযায়ী আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমি মনে করি, সততা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করাই একজন সরকারি কর্মকর্তার মূল কর্তব্য। এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ