
শীত এলেই বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় অনেকের ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে পড়ে। ঠোঁট ফাটা, হাত-পায়ের ত্বকে টান অনুভব করা কিংবা গোড়ালি ফাটার মতো সমস্যাও দেখা দেয়। এ সময় ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে গ্লিসারিন হতে পারে উপকারী উপাদান। সহজলভ্য এই উপাদান ত্বকে আর্দ্রতা টেনে আনতে এবং তা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
গ্লিসারিন এক ধরনের হিউমেকট্যান্ট, যা ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। এটি উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ চর্বি থেকে তৈরি হতে পারে। আবার কৃত্রিম প্রক্রিয়াতেও উৎপাদন করা হয়। তবে ত্বকে ব্যবহারের জন্য প্রসাধনী উপযোগী গ্লিসারিন বেছে নেওয়া জরুরি।
শুধু শুষ্ক ত্বক নয়, ত্বকের ধরন ও ব্যবহারের পদ্ধতি অনুযায়ী অন্যান্য ত্বকেও গ্লিসারিন ব্যবহার করা যায়। তবে সরাসরি অতিরিক্ত ঘন গ্লিসারিন ব্যবহারের পরিবর্তে উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজারের সঙ্গে ব্যবহার করা ভালো। চলুন জেনে নেওয়া যাক ত্বকের যত্নে গ্লিসারিন ব্যবহারের কয়েকটি উপায়।
ঠোঁটের শুষ্কতা কমাতে
শীতকালে ঠোঁটের আর্দ্রতা কমে গিয়ে ফাটতে পারে। এ ক্ষেত্রে ঠোঁটের জন্য উপযোগী ময়েশ্চারাইজিং বাম ব্যবহার করা ভালো। গ্লিসারিনযুক্ত পণ্যও ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। ঠোঁটে জ্বালা বা অস্বস্তি হলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
ফাটা গোড়ালির যত্নে
পায়ের গোড়ালি ফাটলে প্রথমে পা পরিষ্কার করে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর গ্লিসারিনযুক্ত ময়েশ্চারাইজার বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগানো যেতে পারে। রাতে ঘুমানোর আগে পায়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে মোজা পরলে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুবিধা হয়। গোড়ালি গভীরভাবে ফেটে গেলে বা রক্তপাত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে
ত্বকের শুষ্কতা কমাতে গ্লিসারিনযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যায়। গোসলের পর ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই ময়েশ্চারাইজার লাগালে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুবিধা হয়। ঘরে তৈরি মিশ্রণ ব্যবহারের পরিবর্তে ত্বকের উপযোগী প্রস্তুত পণ্য বেছে নেওয়া তুলনামূলক নিরাপদ।
টোনার হিসেবে ব্যবহারে সতর্কতা
গ্লিসারিন ও গোলাপজল মিশিয়ে অনেকে টোনার হিসেবে ব্যবহার করেন। তবে ঘরে তৈরি মিশ্রণ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করলে তাতে জীবাণু জন্মানোর ঝুঁকি থাকে। তাই সংরক্ষণকারী উপাদানবিহীন মিশ্রণ তৈরি করে দীর্ঘদিন ব্যবহার না করাই ভালো। সংবেদনশীল ত্বকে ব্যবহারের আগে ছোট জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।
ত্বক পরিষ্কার করতে
গ্লিসারিন কিছু ক্লিনজিং পণ্যে ব্যবহৃত হয়। এটি ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে মেকআপ বা তেল-ময়লা পরিষ্কারের জন্য ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত ক্লিনজার ব্যবহার করা ভালো। শুধু গ্লিসারিন দিয়ে সব ধরনের মেকআপ সম্পূর্ণ পরিষ্কার হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
ত্বকের বার্ধক্যজনিত শুষ্কতা কমাতে
বয়স বাড়ার সঙ্গে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা কমতে পারে। গ্লিসারিনযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ত্বককে কোমল রাখতে এবং শুষ্কতার কারণে সূক্ষ্ম রেখা বেশি দৃশ্যমান হওয়া কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে এটি বলিরেখা দূর করার নিশ্চিত চিকিৎসা নয়।
ব্রণপ্রবণ ত্বকে ব্যবহারের নিয়ম
গ্লিসারিন নিজে ব্রণের প্রমাণিত চিকিৎসা নয়। ব্রণপ্রবণ ত্বকে ত্বকের উপযোগী, নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো। গ্লিসারিনের সঙ্গে বোরাক্স পাউডার বা কর্পূর মিশিয়ে মুখে লাগানো উচিত নয়। এসব উপাদান ত্বকে জ্বালা বা ক্ষতির কারণ হতে পারে।
ঠোঁট ও ত্বকের মৃতকোষ দূর করতে
মৃতকোষ দূর করতে গ্লিসারিনের চেয়ে ত্বকের উপযোগী এক্সফোলিয়েটিং পণ্য বেশি কার্যকর হতে পারে। ঠোঁটে জোরে ঘষাঘষি করলে ফাটাভাব ও জ্বালা বাড়তে পারে। তাই ঠোঁটের যত্নে মৃদু পদ্ধতি এবং নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করাই ভালো।
গ্লিসারিন ব্যবহারে যেসব বিষয় মনে রাখবেন
গ্লিসারিন ব্যবহারের আগে পণ্যের উপাদান ও নির্দেশনা দেখে নেওয়া জরুরি। লেবু, কর্পূর বা অন্যান্য জ্বালাপ্রবণ উপাদানের সঙ্গে মিশিয়ে সরাসরি মুখে লাগালে ত্বকে অস্বস্তি হতে পারে। প্রথমবার ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট জায়গায় পরীক্ষা করে নিন। লালচে ভাব, চুলকানি বা জ্বালাপোড়া দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
সব মিলিয়ে, শীতকালে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে গ্লিসারিন কার্যকর একটি উপাদান হতে পারে। তবে ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক পণ্য নির্বাচন, নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং ক্ষতিকর ঘরোয়া মিশ্রণ এড়িয়ে চলাই সুস্থ ত্বক বজায় রাখার ভালো উপায়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ