
মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার অন্তর্গত শতখালী ইউনিয়নের শতখালী গ্রামে অবৈধভাবে জমিতে ময়লা ফেলাকে কেন্দ্র করে আপন চাচার ধারালো অস্ত্র ও বাঁশের লাঠির আঘাতে ভাবি জোছনা ও ভাতিজা ইমন শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে গুরুতর জখম হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ৯টার সময় হোটেল মালিক গোলাম নবী তাঁর হোটেলের আবর্জনা পাশের বড় ভাই মৃত লুৎফর রহমানের চাষের জমিতে ফেলেন। এই জমি লিজ নিয়ে চাষ করেন তফসির রহমান। ময়লা ফেলাকে কেন্দ্র করে বড় ভাই চাষি তফসির রহমান ময়লা ও বিল্ডিংয়ের নোংরা পানি ফেলতে নিষেধ করায় হোটেল ভবনের মালিক ছোট ভাই মাহাবুবুর রহমান ধারালো দা দিয়ে তফসির রহমানের পুত্র ইমন মিয়াকে (২৩) কোপ দেন।
ইমনের মা জোছনা বেগম পুত্রকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে ঠেকাতে আসলে হোটেল মালিক গোলাম নবী বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করেন এবং নাক-মুখে কিল-ঘুষি মেরে তাঁকে গুরুতর আহত করেন।
মাহাবুবুর রহমান ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দিলে ভাতিজা ইমন ঠেকাতে গেলে ওই অস্ত্রের আঘাতে তাঁর বাম হাতের কবজির ওপরে এবং বুকের ওপর গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। ওই সময়ে বড় ভাবি জোছনা ঠেকাতে আসলে তাঁকে দেবর গোলাম নবী শরীরের বিভিন্ন জায়গায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করেন। মারামারি ঠেকাতে আসায় মেয়ে হালিমা খাতুনকেও মারধর করা হয়।
এর মধ্যে মেয়ে হালিমা খাতুনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়। ভাবি ও ছেলে দুজনেই মাগুরা সদর হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন। অসুস্থ জোছনা বেগমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বারবার বমি করতে দেখা যায়।
আরও জানা যায়, মাহাবুবুর রহমানের স্ত্রী বিথী বেগম ধস্তাধস্তির সুযোগে হালিমা খাতুনের গলা থেকে প্রায় এক ভরি ওজনের, ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া মাহাবুবুর রহমান বিল্ডিং কোড না মেনেই সীমানা ঘেঁষে ভবন নির্মাণ করেছেন, যার ফলে দীর্ঘদিন ধরে নোংরা পানি ওই জমিতে প্রবেশ করছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয়ভাবে জানা যায়, মাহাবুবুর রহমান ও গোলাম নবীর পক্ষ নিয়ে আপন ভাইয়ের জমিতে হোটেলের আবর্জনা অবৈধভাবে ফেলা নিয়ে এই গোলমালের সৃষ্টি হয়।
আহত ব্যক্তিরা মাগুরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষই অভিযোগ দায়ের করেননি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা জানান, তাঁদের মামলার অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তাঁরা এ ঘটনার অভিযুক্তদের বিচার চান।
গোলমালের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি গোলাম নবীর মোবাইল ফোনে রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ২টা ১৩ মিনিটে ফোন দিলে মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
মাহাবুবুর রহমান জানান, তিনিও শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত। তাই কথা বলার শক্তি নেই, এ কারণে তিনি কিছু বলতে পারবেন না। তাঁর ভাতিজে সাংবাদিক মহব্বত আলীর কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানতে বলেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ