
বরিশাল বিভাগের একমাত্র নির্বাচিত নারী ঝালকাঠি-২ আসনের (সদর ও নলছিটি) সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো তাঁকে ভুল না বোঝার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘ভুল বুঝবেন না, কেউ হতাশ হবেন না।’ ইতোমধ্যে ২০টি ইউনিয়নের মসজিদগুলোতে উন্নয়নের জন্য প্রকল্পের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় বাকি রয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে পরবর্তী বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
শনিবার বিকেলে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক গ্রুপে তিনি এমন একটি স্ট্যাটাস দেন। মুহূর্তের মধ্যে সেই স্ট্যাটাস ভাইরাল হয়ে যায়। তাঁকে সমর্থন করে অনেকেই সেখানে মন্তব্য করেন। অনেকে আবার যেসব এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি, তার চিত্র তুলে ধরেন।
সম্প্রতি ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় মসজিদসহ বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেয় সরকার। এতে যেসব এলাকায় উন্নয়ন হয়নি এবং বরাদ্দও পায়নি, সেখানকার মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো।
ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলার বাসিন্দাদের ‘সোনার মানুষ’ উল্লেখ করে ইলেন ভূট্টো তাঁর স্ট্যাটাসে বলেন, সোনার মানুষদের প্রতি আন্তরিক অনুরোধ, ২০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে যেসব মসজিদের উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে, সেসব ওয়ার্ডের বাইরে যেসব ওয়ার্ড এখনো বরাদ্দ পায়নি, সেগুলোও পর্যায়ক্রমে পরবর্তী বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অর্থাৎ, বর্তমান বাজেটে যেসব ওয়ার্ড বরাদ্দ পেয়েছে, পরবর্তী বাজেটে সেগুলোকে অগ্রাধিকার না দিয়ে বাদপড়া ওয়ার্ডগুলোর উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাই এ নিয়ে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই।
তিনি বলেন, প্রিয় নলছিটিবাসী, আপনাদের উন্নয়নের স্বার্থে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, প্রতিটি ইউনিয়নের উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছি। নলছিটি ও ঝালকাঠির মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে আমি দিনরাত নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছি।
তাঁকে ভুল না বোঝার আহ্বান জানিয়ে এমপি বলেন, বিশেষ করে, যেসব ওয়ার্ডের মসজিদগুলো এখনো উন্নয়ন বরাদ্দের আওতায় আসেনি, সেগুলোও ধারাবাহিকভাবে পর্যায়ক্রমে বরাদ্দের আওতায় আনা হবে। তাই কারও মনে হতাশা, ক্ষোভ কিংবা ভুল বোঝাবুঝি রাখবেন না। উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সবকিছু একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হলেও পর্যায়ক্রমে প্রতিটি এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি সবাইকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আসুন, আমরা ধৈর্য ধারণ করি, একে অপরের প্রতি আস্থা রাখি এবং নলছিটি ও ঝালকাঠির সার্বিক উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ থাকি। আমাদের প্রত্যাশা—উন্নয়ন হোক সবার, অগ্রাধিকার পাক পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলো, আর প্রতিটি মানুষের মুখে ফুটে উঠুক স্বস্তির হাসি।
ইনশাআল্লাহ, আগামীর ঝালকাঠি ও নলছিটি হবে উন্নয়ন, সম্প্রীতি ও জনকল্যাণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
উল্লেখ্য, এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি নলছিটি ও ঝালকাঠির মানুষকে ‘সোনার মানুষ’ বলে সম্বোধন করায় আলোচনায় আসেন। সংসদে এবং বাইরে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। তাঁকে অনেকেই সংসদীয় এলাকার মানুষকে ‘সোনার মানুষ’ বলায় ধন্যবাদ জানান।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ