রবিবার ● ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
● ঢাকা কলেজ-আইডিয়াল কলেজ শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ      ● জিম্বাবুয়ে ফিরিয়ে না নেওয়ায় দেশেই দুই চিতাবাঘের স্থায়ী আবাস      ● গাজায় ধ্বংসস্তূপের পাহাড়, নিচে থাকতে পারে ১০ হাজার মরদেহ      ● আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত      ● প্রযুক্তি হস্তান্তরে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আগ্রহ সিঙ্গাপুরের      ● হরমুজে মার্কিন ড্রোন জব্দের দাবি, বাড়ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা      ● রাজস্ব আদায়ে এনবিআরের ‘থ্রি-আর’ কৌশল      ● সূচক কমলেও সিএসইতে বেড়েছে লেনদেন      ● এক বছর পূর্ণ করল এরিস্টো আই হসপিটাল      ● ফরেনসিক পরীক্ষায় সাড়া দিচ্ছেন না রিজওয়ান      ● বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ নিয়ে সতর্ক অস্ট্রেলিয়া      ● ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২১৫৮      
ভ্রমণ খরচ বাড়ল বান্দরবানে
প্রতিনিধি, বান্দরবান
প্রকাশ: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৯ পিএম

বান্দরবানের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছুটে আসে পর্যটকরা। কিন্তু জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে বান্দরবান ভ্রমণে পর্যটন স্পটভেদে আগের তুলনায় ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। 

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বান্দরবান জিপ, মাইক্রোবাস মালিক সমিতির কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা মো. ফখরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ফখরুল ইসলাম বলেন, বান্দরবানে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ নীলগিরি, চিম্বুক, দেবতাকুম, থানচি, বগালেক, ক্যাউক্রাডংসহ বিভিন্ন পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্র। এসব স্থানে যেতে শহর থেকে বেশ দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়ক দিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। ফলে জ্বালানি খরচও তুলনামূলক বেশি। ফলে আগে নীলগিরি ছিল ৫৩০০, এখন ৫৮০০; রুমা বাজার আগে ৫৩০০, এখন ৫৮০০; দেবতাকুম আগে ৪৫০০, এখন ৫০০০; চিম্বুক ৩৫০০, এখন ৪০০০; বগালেক আগে ৯০০০, এখন ১০,০০০; তমাতুঙ্গী আগে ৮০০০, এখন ৯০০০; ডিম পাহাড় আগে ১০,০০০, এখন ১১,০০০ টাকা।

এ ছাড়া প্যাকেজে নীলাচল, মেঘলা, রুপালী ঝর্ণা ও শৈলপ্রপাত একসঙ্গে আগে ৩৫০০, এখন ৪০০০; নীলগিরি, ডাবল হান্ড্রেড ভিউ, টাইটানিক ভিউ, চিম্বুক ও শৈলপাত আগে ছিল ৪৩০০, এখন ৪৮০০; নীলগিরি, ডাবল হান্ড্রেড ভিউ, টাইটানিক ভিউ, চিম্বুক, শৈলপাত, মেঘলা ও নীলাচল আগে ৬০০০, এখন ৭০০০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া নতুন এই ভাড়ার তালিকা অনুযায়ী আজ সকাল থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ১৫৫টি গাড়ি করে প্রতি গাড়িতে ১৩ জন হিসেবে প্রায় ২ হাজারের বেশি পর্যটক নিয়ে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে।

ঢাকা থেকে ভ্রমণে আসা পর্যটক জামাল উদ্দিন বলেন, ১০ জন বন্ধু মিলে বান্দরবান ভ্রমণে এসেছেন তারা। উদ্দেশ্য রুমার বগালেক ও থানচির নাফাকুম ভ্রমণ করা। এসব কেন্দ্র ভ্রমণে এখন ৫-৬ হাজার টাকা অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, যা তাদের মোট ভ্রমণ খরচের বড় একটি অংশ।

পর্যটকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু বান্দরবানে আসা-যাওয়ার খরচ নয়, জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াতেও বেড়েছে ব্যয়। বিশেষ করে দল বেঁধে পর্যটনকেন্দ্র ঘুরতে গেলে চাঁদের গাড়ি, মাইক্রোবাস কিংবা অন্যান্য যানবাহনের ভাড়া আগের তুলনায় বেশি পড়ছে। এতে পুরো ভ্রমণের বাজেটেই প্রভাব পড়ছে।

ঢাকা থেকে ভ্রমণে আসা অলিউর রহমান বলেন, আগেও পরিবার-পরিজন নিয়ে বান্দরবান ভ্রমণে এসেছিলেন তিনি। তবে এবার এসে আগে যে বাজেট নিয়ে বান্দরবানে আসা যেত, এখন সেই বাজেটে সবকিছু করা কঠিন। গাড়ি ভাড়া ও বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতে অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা বেশি লাগছে।

রাজশাহী থেকে পরিবার নিয়ে ভ্রমণে আসা মিনহাজ বলেন, ভ্রমণে গাড়ি ভাড়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তেলের দাম বাড়ার কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে। এর সঙ্গে খাবারের খরচ যোগ হওয়ায় পুরো ভ্রমণের বাজেট বেড়ে যাচ্ছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় বাড়লেও ভাড়া যেন ইচ্ছামতো বাড়ানো না হয়। পর্যটন মৌসুমে পরিবহন ভাড়া নির্ধারণ ও তা কার্যকর হচ্ছে কি না, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি থাকা প্রয়োজন।

বান্দরবানের চাঁদের গাড়ির চালক দিদারুল আলম বলেন, তেলের দাম বাড়লে তাদের খরচ সরাসরি বেড়ে যায়। পাহাড়ি রাস্তায় গাড়ি চালালে সমতলের তুলনায় জ্বালানি খরচ বেশি হয়। পর্যটকদের কাছ থেকে যে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, তার বড় অংশই গাড়ির জ্বালানি ও পরিচালনা ব্যয়ে চলে যায়।

চালক সমিতির সভাপতি জহির উদ্দীন মাসুম জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে গাড়ির পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে। একটি গাড়ি নিয়ে পর্যটনকেন্দ্রগুলো ঘুরতে গেলে শুধু তেল নয়, চালকের পারিশ্রমিক, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য খরচও রয়েছে। সব মিলিয়ে আগের ভাড়ায় গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

জিপ-মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি নাছিরুল আলম বলেন, ২০২২ সালের দিকে ভাড়া বৃদ্ধির পর মাঝে দুইবার তেলের দাম বৃদ্ধি পেলেও বান্দরবানে ভাড়া বাড়ানো হয়নি। এবার লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধির কারণে দূরত্ব অনুযায়ী ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। যা পর্যটকদের জন্য সহনশীল পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।






স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close