
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে এ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী পর্বসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নেন।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সেখানে জানানো হয়, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, জাতীয় স্বার্থ এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। তুরস্ক বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিয়োগ, রাজনৈতিক সম্পর্ক ও সামরিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। এরদোগানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকেও অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এদিকে রোহিঙ্গা সংকটও প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার বিষয়টি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন বৈঠক ও সাইডলাইন আলোচনায় গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ-বিশ্বব্যাংক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে। পাশাপাশি অর্থনীতি, বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং উন্নয়ন সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় এসেছে।
বাংলাদেশে কার্যালয় খোলার বিষয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার আগ্রহের কথাও প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। শিক্ষা, ব্যবসা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আলোচনা চলছে।
সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এবারের নিউইয়র্ক সফরে জাতিসংঘের কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, অর্থনীতি, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি