প্রকাশ: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫০ পিএম

শেয়ারবাজারে কারসাজি, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং সন্দেহজনক লেনদেন দ্রুত শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর অংশ হিসেবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) আগামী এক বছরের মধ্যে বর্তমান সার্ভিল্যান্স ব্যবস্থাকে এআইভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় রূপান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থায় কোনো শেয়ারে অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বা সতর্কবার্তা তৈরি হবে এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে দ্রুত লেনদেন স্থগিত করার সুযোগ তৈরি হবে।
তবে শুধু এআই সফটওয়্যার স্থাপন করলেই এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে না; এর নেপথ্যে রয়েছে নানা প্রযুক্তিগত ও কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ:
কেওয়াইসি (KYC) তথ্যের সমন্বয়: কার্যকর এআই সার্ভিল্যান্সের জন্য ডিএসইর ট্রেডিং ডেটার সঙ্গে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল), ব্রোকারেজ হাউসের ব্যাক-অফিস এবং বিএসইসির কেওয়াইসি তথ্যের সঠিক সংযোগ ও সমন্বয় জরুরি। প্রকৃত সুবিধাভোগী বা বেনিফিশিয়াল ওনারের (বিও) পূর্ণাঙ্গ তথ্য না থাকলে এআই কেবল মূল্যবৃদ্ধি চিহ্নিত করতে পারবে, নেপথ্যের কারসাজিকারীদের ধরতে ব্যর্থ হবে।
প্রয়োজনীয় অবকাঠামো: রিয়েল-টাইম ডেটা সংগ্রহ, ডেটা ইন্টিগ্রেশন, উন্নত মেশিন-লার্নিং মডেল, সমন্বিত তদন্ত ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ও অডিট ট্রেইল নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফলস পজিটিভ ও নেগেটিভের ঝুঁকি: পুরোপুরি এআই-নির্ভর সিদ্ধান্ত বাজারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। যৌক্তিক কারণে দাম বাড়লেও এআই ভুল সংকেত (ফলস পজিটিভ) দিয়ে লেনদেন বন্ধ করলে বাজার অস্থির হতে পারে।
এ বিষয়ে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার উল্লেখ করেছেন যে, এআই মানুষের জায়গা পুরোপুরি নেবে না, বরং বাজার বিশ্লেষকদের কাজে সহায়তা করবে। অর্থাৎ, এআই প্রাথমিক সতর্ক সংকেত বা সংবেদনশীল নিদর্শন চিহ্নিত করবে এবং অভিজ্ঞ মানব বিশ্লেষকেরা তা যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। পরিশেষে, কেবল উন্নত প্রযুক্তি নয়, বরং সঠিক তথ্যের সংযোগ এবং যথাযথ তদন্তের মাধ্যমেই কেবল এই নজরদারি ব্যবস্থার প্রকৃত সাফল্য নিশ্চিত করা সম্ভব।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি