প্রকাশ: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০২ পিএম

অনেকেরই রাতের খাবার শেষে এক কাপ গরম চা না খেলে তৃপ্তি হয় না। কিন্তু এই অভ্যাসটি শরীরের পুষ্টি শোষণে কেমন প্রভাব ফেলে, তা অনেকেরই অজানা। রাতের ঠিক পরপরই চা পান করা সরাসরি বিপজ্জনক না হলেও, এটি শরীরের বিভিন্ন খনিজ, বিশেষ করে আয়রন শোষণের ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
চা পান কেন আয়রন শোষণে বাধা দেয়?
চায়ে (বিশেষ করে কালো চায়ে) ট্যানিন নামক উপাদান থাকে, যা উদ্ভিদজাত খাবারে থাকা নন-হিম আয়রনের (যেমন- মসুর ডাল, পালং শাক ও শিম) সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। এর ফলে শরীর খাবার থেকে প্রয়োজনীয় আয়রন সঠিকভাবে শোষণ করতে পারে না। গবেষণায় দেখা গেছে, আয়রনযুক্ত খাবারের সঙ্গে বা ঠিক পরপরই চা পান করলে নন-হিম আয়রনের শোষণ প্রায় ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
কার ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি?
নিরামিষভোজী বা ভেগান: যারা উদ্ভিজ্জ খাবারের ওপর বেশি নির্ভরশীল, তাদের জন্য এটি বেশি প্রযোজ্য। কারণ মাংস বা মাছে থাকা হিম আয়রন ট্যানিন দ্বারা খুব একটা প্রভাবিত হয় না।
বিশেষ শারীরিক অবস্থা: আয়রনের অভাবজনিত রক্তাল্পতায় (অ্যানিমিয়া) আক্রান্ত ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং পিরিয়ড চলাকালীন নারীদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ঘুমের ওপর প্রভাব
চায়ে ক্যাফেইন থাকে (প্রতি কাপে প্রায় ১১ থেকে ৬১ মিলিগ্রাম)। ঘুমানোর কাছাকাছি সময়ে রাতের খাবারের পর চা পান করলে ক্যাফেইন-সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
করণীয় ও সঠিক সময়
রাতের পর চা খাওয়া সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের খাবার এবং চা পানের মাঝে অন্তত এক ঘণ্টার বিরতি রাখা উচিত। এতে আয়রন শোষণের বাধা কেটে যায়। এছাড়া খাবারে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ উপাদান (যেমন লেবু বা টমেটো) রাখলে তা আয়রন শোষণে সাহায্য করে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি