প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৪ পিএম

শরীরের সঠিক কার্যক্ষমতা এবং হিমোগ্লোবিন তৈরির জন্য আয়রনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেক সময় নিয়ম করে আয়রন-সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া সত্ত্বেও রক্তে এর কাঙ্ক্ষিত মাত্রা বজায় থাকে না। এর পেছনে কাজ করে বেশ কিছু জৈবিক ও শারীরিক কারণ। খাবার খাওয়ার পর শরীর যদি সেটি ঠিকমতো শোষণ করতে না পারে কিংবা শরীরের ভেতর থেকে তা দ্রুত খরচ বা অপচয় হয়ে যায়, তবে ঘাটতি থেকেই যায়।
প্রধান কারণগুলোর মধ্যে একটি হলো আয়রনের ধরন ও শোষণের প্রতিবন্ধকতা। মাংস বা মাছে থাকা হিম আয়রন যতটা সহজে শোষিত হয়, শাকসবজি বা ডালজাতীয় উদ্ভিদ থেকে আসা নন-হিম আয়রন ঠিক তত সহজে শোষিত হতে পারে না। এছাড়া খাবার খাওয়ার পরপরই চা, কফি বা অতিরিক্ত দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ করলে তা আয়রন শোষণে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করে। এর বিপরীতে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার নন-হিম আয়রন শোষণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
শোষণজনিত সমস্যা ছাড়াও রক্তক্ষরণ আয়রনের ঘাটতির একটি অন্যতম বড় কারণ। অতিরিক্ত ঋতুস্রাব বা নারীদের মাসিকের সময় বেশি রক্তপাত হলে শরীরে সঞ্চিত আয়রন দ্রুত ফুরিয়ে যায়। পাশাপাশি আলসার, পাচনতন্ত্রের প্রদাহ, পাইলস কিংবা অন্ত্রের কোনো জটিল রোগের (যেমন: সিলিয়াক ডিজিজ) কারণেও ক্ষুদ্রান্ত্র পুষ্টি উপাদান সঠিকভাবে শোষণ করতে ব্যর্থ হয়। অনেক সময় গর্ভাবস্থায় কিংবা শৈশব ও কৈশোরে শরীরের স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত আয়রনের প্রয়োজন হয়, যা সাধারণ ডায়েট দিয়ে সবসময় পূরণ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এছাড়াও দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ বা প্রদাহজনিত বিভিন্ন জটিলতা থাকলে শরীর লোহিত রক্তকণিকা প্রস্তুত ও ব্যবহারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বজায় রাখতে পারে না। তাই শুধু খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন নয়, দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতির ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অন্তর্নিহিত কারণ নির্ণয় করা আবশ্যক।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি