
মাত্র ১ কোটি ৭৫ লাখ রুপি বাজেটে নির্মিত সিনেমা ‘হনুমান অংশ’ বক্স অফিসে রীতিমতো ইতিহাস গড়েছে। মুক্তির পর নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে সিনেমাটির বিশ্বব্যাপী আয় ২০০ কোটি রুপির মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে।
এখন পর্যন্ত সিনেমাটির বিশ্বব্যাপী গ্রস আয় দাঁড়িয়েছে ২০৫ কোটি ১৫ লাখ রুপি। অন্যদিকে শুধু ভারতেই সিনেমাটির নিট আয় হয়েছে ১৭৩ কোটি ৬৩ লাখ রুপি।
তবে ‘হনুমান অংশ’-এর যাত্রার শুরুটা এতটা সহজ ছিল না। সিনেমাটি মুক্তির পর ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’ ও ‘আওয়ারাপন ২’-এর মতো সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে আসায় এর প্রদর্শনীর সংখ্যা কমে মাত্র ২৫টি হলে নেমে যায়।
কিন্তু এরপরই বদলে যায় পরিস্থিতি। ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’ প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যবসা করতে না পারায় ধীরে ধীরে ‘হনুমান অংশ’-এর প্রদর্শনীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। পাশাপাশি দর্শকদের মধ্যেও সিনেমাটি নিয়ে আগ্রহ বাড়ে। প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের উপস্থিতি ক্রমেই বাড়তে থাকায় সিনেমাটি বক্স অফিসে শক্ত অবস্থান তৈরি করে।
🙏 যে গল্পে মুগ্ধ দর্শক
বিশাল চতুর্বেদীর লেখা ও পরিচালনায় নির্মিত ‘হনুমান অংশ’ উত্তরাখণ্ডের শ্রদ্ধেয় সাধক বাবা নিম করোলির জীবন ও আধ্যাত্মিক যাত্রাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে।
সিনেমার গল্পে দেখা যায়, মায়ের মৃত্যুর পর শোকাহত তরুণ লক্ষ্মী নারায়ণ ঈশ্বরের সন্ধানে আধ্যাত্মিক যাত্রায় বেরিয়ে পড়েন। জীবন, মৃত্যু ও মানুষের দুঃখ-কষ্টের নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তিনি উত্তর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে বেড়ান।
একপর্যায়ে এই আধ্যাত্মিক যাত্রার মধ্য দিয়ে তিনি নিম করোলি বাবায় রূপান্তরিত হন। ভালোবাসা, সেবা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে তার শিক্ষা অসংখ্য মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে—সিনেমায় সেই জীবনদর্শনই তুলে ধরা হয়েছে।
সিনেমাটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন শোভিনব সত্য। তার সঙ্গে রয়েছেন ভিহান শেডগে, চন্দন কে আনন্দ, পূর্ণিমা তিওয়ারি, অনিল রাস্তোগি, গুলশান পাণ্ডে ও ভাগবনদাস প্যাটেল।
এদিকে সিনেমাটির ব্যাপক প্রচারণা চালাতে গিয়ে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন পরিচালক বিশাল চতুর্বেদী। তিনি জানিয়েছেন, মুম্বাইয়ে গণেশ উৎসব চলাকালে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে গিয়ে বাপ্পার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাবেন।
স্বল্প বাজেটের একটি সিনেমা কীভাবে দর্শকের ভালোবাসায় বিশাল বক্স অফিস সাফল্য পেতে পারে, ‘হনুমান অংশ’ যেন তারই একটি বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি