
অনেকের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে—শরীরের ওজন বেশি হলে নিশ্চয়ই শরীরে পুষ্টির ঘাটতি নেই। কিন্তু এই ধারণা সঠিক নয়। একজন ব্যক্তি অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় ভুগলেও তার শরীরে প্রয়োজনীয় প্রোটিনসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি থাকতে পারে।
এর প্রধান কারণ হলো ক্যালোরি এবং প্রোটিন এক জিনিস নয়। কোনো ব্যক্তির দৈনিক খাবারে ক্যালোরির পরিমাণ অনেক বেশি হলেও প্রোটিনের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় কম হতে পারে। বিশেষ করে খাদ্যতালিকায় পরিশোধিত শস্য, চিনি, ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবারের পরিমাণ বেশি হলে ওজন বাড়তে পারে, কিন্তু শরীর প্রয়োজনীয় প্রোটিন নাও পেতে পারে।
🍚 পেট ভরা খাবারেও থাকতে পারে প্রোটিনের ঘাটতি
আমাদের প্রতিদিনের খাবারে ভাত, রুটি ও অন্যান্য শস্যজাতীয় খাবারের পরিমাণ অনেক সময় বেশি থাকে। এসব খাবার খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও শুধু এগুলোর ওপর নির্ভর করলে প্রয়োজনীয় প্রোটিন পাওয়া নাও যেতে পারে।
ডাল, ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, দই, পনির, সয়াবিন, শিম, বাদাম ও বিভিন্ন ধরনের বীজ প্রোটিনের ভালো উৎস। তবে ব্যক্তির খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী এসব খাবারের পরিমাণ ও গ্রহণের হার ভিন্ন হতে পারে।
ফলে একজন ব্যক্তি নিয়মিত তিন বেলা পেট ভরে খেলেও তার দৈনিক প্রোটিনের প্রয়োজন পূরণ নাও হতে পারে। অন্যদিকে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের কারণে তার ওজন বাড়তে পারে।
💪 পেশীর জন্য প্রোটিন কেন গুরুত্বপূর্ণ?
শরীরের পেশী রক্ষণাবেক্ষণ, টিস্যু মেরামত, বিভিন্ন এনজাইম ও হরমোন তৈরির পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতেও প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীরের এসব কার্যক্রমের জন্য নিয়মিত অ্যামিনো অ্যাসিডের প্রয়োজন হয়, যা প্রোটিন থেকে পাওয়া যায়।
বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বয়সের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই পেশীর ভর ও শক্তি কমতে থাকে। এর সঙ্গে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা বা অপর্যাপ্ত পুষ্টি যুক্ত হলে পেশী হারানোর ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
এ কারণে একজন বয়স্ক ব্যক্তির ওজন বেশি হলেও তার শরীরে চর্বির পরিমাণ বেশি এবং পেশীর ভর তুলনামূলক কম হতে পারে। তাই শুধু ওজন বা শরীরের আকার দেখে কারও পুষ্টির অবস্থা বিচার করা ঠিক নয়।
⚖️ ওজন কমানোর সময়ও প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে শুধু ক্যালোরি কমানোর দিকে নজর দেওয়া যথেষ্ট নয়। খাবারে কী ধরনের ক্যালোরি রয়েছে এবং পর্যাপ্ত প্রোটিন আছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
হঠাৎ করে খাবারের পরিমাণ বা ক্যালোরি অনেক কমিয়ে দিলে শরীরের চর্বির পাশাপাশি পেশীর ভরও কমে যেতে পারে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত প্রোটিন এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম—এই তিনটির দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সবশেষে মনে রাখা জরুরি, শরীরের ওজন বেশি হওয়া মানেই শরীরে সব ধরনের পুষ্টি পর্যাপ্ত রয়েছে—এমনটা নয়। স্বাস্থ্যকর শরীরের জন্য শুধু ওজন কমানো নয়, প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও পেশীর স্বাস্থ্য বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি