
ব্যবহৃত বা রিকন্ডিশন্ড ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) আমদানির ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নির্দিষ্ট শর্তে আমদানির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)।
শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা। তাদের মতে, পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা না দিয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিগতভাবে সক্ষম রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ রাখা উচিত।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিদ্যমান আমদানি নীতিতে ব্যবহৃত ইভি আমদানির সুযোগ থাকলেও গত ২৪ আগস্ট প্রকাশিত নতুন নীতিতে তা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা তুলনামূলক কম দামে নতুন প্রযুক্তির পরিবেশবান্ধব যানবাহন ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তাদের দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড যানবাহনের পাশাপাশি ইভিও আমদানি-রপ্তানি হচ্ছে। জাপান, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে ইভি রপ্তানির প্রবাহও বাড়ছে। বিভিন্ন দেশে গাড়ির বয়স ও অন্যান্য মানদণ্ড নির্ধারণ করে শর্তসাপেক্ষে ব্যবহৃত ইভি আমদানির সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তারা।
বারভিডার নেতারা বলেন, নতুন ইলেকট্রিক গাড়ির দাম মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের অনেকেরই নাগালের বাইরে। তুলনামূলক কম দামে রিকন্ডিশন্ড ইভি বাজারে এলে সাধারণ ক্রেতারা উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট যানবাহনের ৩০ শতাংশ ইভিতে রূপান্তরের সরকারি লক্ষ্য অর্জনেও এটি সহায়ক হবে বলে তাদের মত।
রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানিতে কয়েকটি শর্ত আরোপের প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পুরোনো গাড়ি আমদানির অনুমতি, ব্যাটারির স্টেট অব হেলথ (SoH) কমপক্ষে ৭০ শতাংশ নির্ধারণ এবং আমদানির আগে অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে গাড়ি পরিদর্শন বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। দুর্ঘটনা বা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত যান আমদানি নিষিদ্ধ রাখারও দাবি জানিয়েছে তারা।
এ ছাড়া ব্যবহৃত ইভির ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার ও নিরাপদে নিষ্পত্তির জন্য পৃথক কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে বারভিডা। পাশাপাশি চার্জিং অবকাঠামো, সার্ভিসিং সুবিধা ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ইভির জন্য কর কাঠামো নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।
নির্দিষ্ট সময় পর রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানিসংক্রান্ত নীতির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনেরও আহ্বান জানানো হয়।
মানববন্ধনে বারভিডার নেতারা বলেন, পরিবেশ রক্ষা, শিল্পায়ন, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, চার্জিং অবকাঠামো উন্নয়ন এবং টেকসই ইভি শিল্প গড়ে তুলতে রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ থাকা প্রয়োজন।
বারভিডার সভাপতি আবদুল হক বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে তাদের আবেদন পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। নীতিনির্ধারণী কাঠামোর মধ্যে একটি যুক্তিসঙ্গত সমাধান চান তারা।
মানববন্ধনে সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল রিয়াজ রহমান, সাবেক প্রেসিডেন্ট জাকারিয়া মাহমুদ চৌধুরী খান, মো. হারিছ উদ্দিন খান, মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, মো. শওকত আলী চৌধুরী, মো. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ