প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৫ পিএম

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফায়ারিং অনুশীলনকালে দুর্ঘটনায় নিহত সেনাসদস্য (গানার) তাসনিম রিফাতের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের পর সামাজিক ও সামরিক মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।
এর আগে সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে রিফাতের মরদেহ রাজশাহী সেনানিবাসে নিয়ে আসা হয়। পরে সেখান থেকে সড়কপথে মরদেহ পৌঁছায় তার জন্মস্থান রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামে।
মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও গ্রামবাসীদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো দেখতে তার বাড়িতে ভিড় করেন আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়রা। কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকার পরিবেশ।
পরে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এবং পরিবারের সদস্য ও হাজারো গ্রামবাসীর অংশগ্রহণে বাদ জোহর রিফাতের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে সামরিক মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনাবশত গোলা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে সৈনিক তাসনিম রিফাতসহ দুই সেনাসদস্য প্রাণ হারান।
রিফাতের মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে রিফাতের মা মারা যান। এবার মাত্র ২৮ বছর বয়সে ছেলেকে হারিয়ে শোকে নির্বাক হয়ে পড়েছেন তার বাবা আসাদুল ইসলাম।
মৃত্যুকালে তাসনিম রিফাত স্ত্রী ও আড়াই বছরের একটি কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। একমাত্র ছোট্ট মেয়েটিকে রেখে তার এমন আকস্মিক মৃত্যু পরিবার ও স্বজনদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সামরিক মর্যাদায় শেষ বিদায়ের মধ্য দিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সেনাসদস্য তাসনিম রিফাত। তার মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি