প্রকাশ: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫০ পিএম

বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদবের আইনি লড়াই নতুন মোড় নিয়েছে। চেক বাউন্স মামলায় কারাদণ্ডের মুখে থাকা এই অভিনেতাকে জেলে যাওয়া এড়াতে ৫ কোটি রুপি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বুধবারের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রিতে ওই অর্থ জমা পড়লে তাঁর সাজা আপাতত স্থগিত রাখার বিষয়টি আদালত বিবেচনা করবে।
রাজপাল যাদবের বিরুদ্ধে এই মামলা অবশ্য এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলছে। ২০১০ সালে নিজের পরিচালনায় ‘আতা পতা লাপতা’ সিনেমা নির্মাণের সময় মুরলী প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে প্রায় ৫ কোটি রুপি ঋণ নিয়েছিলেন তিনি। সিনেমাটি ব্যবসায়িকভাবে সফল না হওয়ায় সেই ঋণের অর্থ পরিশোধ করতে পারেননি অভিনেতা। পরে সুদসহ বকেয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ৯ কোটি রুপিতে পৌঁছায়।
ঋণের অর্থ পরিশোধের জন্য রাজপাল যাদব সাতটি চেক দিয়েছিলেন। কিন্তু সেগুলো বাউন্স করার অভিযোগ ওঠে। এরপর ঋণদাতা সংস্থা রাজপাল যাদব, তাঁর স্ত্রী রাধা রাজপাল যাদব এবং তাঁদের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করে।
২০১৮ সালে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রাজপাল যাদব ও তাঁর স্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করেন। একই মামলায় রাজপালকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরের বছর সেশনস আদালতও নিম্ন আদালতের সেই রায় বহাল রাখেন।
এরপর সাজা থেকে স্বস্তি পেতে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিনেতা। ২০২৪ সালের জুনে তাঁর সাজা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। পাশাপাশি বকেয়া অর্থ পরিশোধের জন্য বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে পুরো বকেয়া অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করতে পারেননি তিনি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। আদালতে আত্মসমর্পণের পর রাজপাল যাদবকে তিহার জেলে পাঠানো হয়। পরে অভিযোগকারী পক্ষের সম্মতিতে ১ কোটি ৫০ লাখ রুপি জমা দিয়ে অন্তর্বর্তী জামিন পান তিনি। পরবর্তী সময়ে সেই জামিনের মেয়াদও বাড়ানো হয়।
বকেয়া অর্থের ব্যবস্থা করতে আরও ৩০ দিন সময় চেয়ে আবেদন করেছিলেন রাজপাল। কিন্তু দিল্লি হাই কোর্ট তাঁর আবেদন নাকচ করে দেয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণ করার কথা ছিল। এর আগেই ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিনেতা।
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি. মোহনের বেঞ্চে তাঁর আবেদনের শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত ৫ কোটি রুপি জমা দেওয়ার শর্ত দেয়।
এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাজপাল যাদব ওই অর্থ জোগাড় করে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রিতে জমা দিতে পারেন কি না, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অর্থ জমা পড়লে তাঁর সাজা আপাতত স্থগিত রাখার বিষয়ে আদালত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা রয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি