
আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৭ বছর, পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান সরকারের আমলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখবে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি (পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি)। অডিট আপত্তি ও অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ যাচাই করে অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান কমিটির সভাপতি ও বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
তিনি বলেন, অতীতের সব সরকারের আমলে সরকারি অর্থ ব্যয়ের হিসাব পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করা হবে। তবে বর্তমানে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে নিকট অতীতের, বিশেষ করে ২০২৪-২৫ সালের অডিট আপত্তিগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
অডিট আপত্তি যাচাই করে ব্যবস্থা
সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, সরকারের বর্তমান ও অতীতের ব্যয় পর্যালোচনা করা এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) উত্থাপিত অডিট আপত্তি নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই হিসাব কমিটির মূল দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি বা আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি অডিট আপত্তি বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি আপত্তি নিষ্পত্তি হলেও বাকি বিষয়গুলো তদন্তে একটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরেজমিন তদন্ত শেষে এক সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে সাব-কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে অভিযোগ
কমিটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে অর্জিত অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে আয় করা অর্থের ব্যয় বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট লভ্যাংশের ৩০ শতাংশ বিশেষজ্ঞদের পাওয়ার কথা।
তবে অভিযোগ রয়েছে, লভ্যাংশের পরিবর্তে মোট আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ হিসাব করে অর্থ ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে কমিটির সভাপতি বলেন, কোনো কাজে ১০০ টাকা আয় হলে এবং ওই কাজ সম্পন্ন করতে ৯০ টাকা ব্যয় হলে প্রকৃত লভ্যাংশ থাকে ১০ টাকা। নিয়ম অনুযায়ী ওই ১০ টাকার ৩০ শতাংশ বিশেষজ্ঞদের পাওয়ার কথা। কিন্তু সেখানে পুরো ১০০ টাকার ওপর ৩০ শতাংশ হিসাব করা হয়েছে। এতে সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি আইন ও সরকারি বিধি লঙ্ঘন করেছে কি না, তা তদন্তের পাশাপাশি অতিরিক্ত নেওয়া অর্থ আদায়ের নির্দেশ দিয়েছে কমিটি। একই সঙ্গে অর্থ আদায়ের অগ্রগতি প্রতি মাসে কমিটিকে জানাতে বলা হয়েছে।
বড় অনিয়মে অগ্রাধিকার
সরকারি হিসাব কমিটি জানিয়েছে, শুধু বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অন্তর্বর্তী সরকারসহ অতীতের অন্যান্য সরকারের আমলের অডিট আপত্তিও পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করা হবে।
যেসব ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্নীতি বা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান অডিট আপত্তির যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলে জানান সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
তিনি বলেন, কমিটির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে এখন থেকে প্রতিটি বৈঠকের সিদ্ধান্ত প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ