
সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর—আগামী তিন মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সময়ে বঙ্গোপসাগরে চার থেকে ছয়টি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি নিম্নচাপে এবং একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সংস্থাটির প্রকাশিত মৌসুমি পূর্বাভাসে আগামী তিন মাসের আবহাওয়ার সম্ভাব্য চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
আগস্টে বৃষ্টি কমেছে
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে বিভাগভেদে বৃষ্টিপাতের পরিমাণে পার্থক্য ছিল। চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি, সিলেট ও বরিশালে স্বাভাবিক এবং অন্যান্য বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আগস্টে বঙ্গোপসাগরে চারটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। সক্রিয় মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ, সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতও হয়েছে। এ মাসে সর্বোচ্চ দৈনিক ১৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় হাতিয়ায়।
এদিকে আগস্টের ১০ থেকে ১২, ২২ এবং ২৬ থেকে ৩০ তারিখ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। ২৭ আগস্ট রাজশাহীতে দেশের সর্বোচ্চ ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। আর ৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে সর্বনিম্ন ২২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
আগস্টে দেশের সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন ও গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় যথাক্রমে শূন্য দশমিক ৮, শূন্য দশমিক ৫ ও শূন্য দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।
আগামী তিন মাসে কমতে পারে বৃষ্টি
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে।
ঢাকায় সেপ্টেম্বরে ২৫০-২৮০ মিলিমিটার, অক্টোবরে ১৪০-১৮০ মিলিমিটার এবং নভেম্বরে ২০-৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। ময়মনসিংহে যথাক্রমে ৩১০-৩৩০, ১৬০-২১০ ও ১০-২০ মিলিমিটার বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
চট্টগ্রামে সেপ্টেম্বরে ৩৩০-৩৬০, অক্টোবরে ২০০-২৪০ এবং নভেম্বরে ৩০-৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। সিলেটে এ তিন মাসে যথাক্রমে ৩৬০-৩৮০, ১৬০-২২০ ও ২০-৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজশাহীতে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ২৬০-২৮০, ১২০-১৪০ ও ১০-২০ মিলিমিটার বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। রংপুরে হতে পারে যথাক্রমে ৩৭০-৩৯০, ১৩০-১৮০ ও ৫-১৫ মিলিমিটার বৃষ্টি।
খুলনায় সেপ্টেম্বরে ২৭০-২৯০, অক্টোবরে ১২০-১৭০ এবং নভেম্বরে ২৫-৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। বরিশালে এ সময়ে বৃষ্টিপাত হতে পারে যথাক্রমে ৩২০-৩৪০, ২১০-২৪০ ও ৪০-৫০ মিলিমিটার।
বঙ্গোপসাগরে ৪-৬ লঘুচাপ, একটি ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা
আগামী তিন মাসে বঙ্গোপসাগরে চার থেকে ছয়টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এর মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
৩-৫ দফা তাপপ্রবাহের আশঙ্কা
পূর্বাভাসে আগামী তিন মাসে দেশে তিন থেকে পাঁচ দফা মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, মৃদু তাপপ্রবাহে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মাঝারি তাপপ্রবাহে ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে।
এ ছাড়া আগামী তিন মাসে দেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
৬-১০ দিন হতে পারে বজ্রঝড়
এ সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছয় থেকে ১০ দিন বজ্রঝড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের নদ-নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ আগস্ট মাসের মতোই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই মৌসুমি পূর্বাভাস আগামী তিন মাসের সামগ্রিক আবহাওয়ার সম্ভাব্য চিত্র তুলে ধরে। এটি কোনো নির্দিষ্ট দিন বা নির্দিষ্ট এলাকায় ঘূর্ণিঝড়, তাপপ্রবাহ কিংবা বজ্রঝড় হওয়ার নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়।
পরবর্তী সময়ে আবহাওয়ার পরিবর্তিত পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে অধিদপ্তরের নিয়মিত দৈনিক, পাঁচ দিনের, সামুদ্রিক ও ঘূর্ণিঝড়সংক্রান্ত পূর্বাভাস অনুসরণ করতে হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ