
ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌরসভার বিভিন্ন সড়কে সৌরবিদ্যুৎ চালিত সড়ক বাতি স্থাপনের প্রকল্পে অনিয়ম ও কাজের অর্ধেকই অসম্পূর্ণ থাকার অভিযোগ উঠেছে। তিন বছর আগে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও অনেক বাতি এখনও স্থাপন হয়নি। স্থাপিত বাতির মধ্যে অধিকাংশ বাতি নষ্ট, খুটি দাঁড়িয়ে থাকলেও আলো জ্বলে না, ব্যাটারীসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং তদারকির অভাবে কয়েক মাসের মধ্যেই বাতির অধিকাংশ অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। এর ফলে পৌরসভার বড় অংশ অন্ধকারে ডুবে থাকে, বেড়েছে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা এবং সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং বাতি পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে মহেশপুর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ১৫০টি সড়ক বাতি স্থাপনের জন্য ১ কোটি ৯৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। এর মধ্যে বসানো হয়েছে মাত্র ৮১টি বাতি, যেগুলোর অধিকাংশই বর্তমানে নষ্ট। এখনও ৭৯টি বাতি স্থাপনের কাজ বাকি রয়েছে।
পৌরবাসী সাদ্দাম হোসেন বলেন, “যে আশা নিয়ে সোলার বাতি বসানো হয়েছিল, কিছুই পাইনি। রাতের অন্ধকারে বাড়িতে যাওয়া খুব ভয়ঙ্কর।”
বসির আহমেদ বলেন, “রাস্তার দুই পাশে লাইটের খুঁটি আছে, কিন্তু আলো নেই। মেয়াদ শেষ হলেও কর্তৃপক্ষ কিছু করছে না, এটা দুঃখজনক।” ভ্যানচালক হাবিবুর রহমান বলেন, “বলে ছিল রাস্তায় লাইট থাকলে দুর্ঘটনা কমবে, কিন্তু এখন অন্ধকারেই চলতে হচ্ছে।”
দোকানি কবির হোসেন বলেন, “কোটি কোটি টাকা খরচ হয়েছে, খুঁটি দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু আলো নেই। প্রকল্পের সময়ও শেষ হয়ে গেছে, তাহলে এর সার্থকতা কোথায়?”
মশিউর রহমান নামের আরেকজন বলেন, “উন্নয়ন অবহেলার উদাহরণ এটি। কাজ শেষ হলেও রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি, তাই আজ অবস্থা ভয়াবহ।”
রাসেল হোসেন বলেন, “নিম্নমানের সামগ্রী ও তদারকির অভাবে কয়েক মাসের মধ্যেই বাতি নষ্ট হয়েছে। দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
এ বিষয়ে মহেশপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সোহেল রানা বলেন, “সময়মতো যন্ত্রাদি না পাওয়ায় কাজ স্থগিত ছিল। মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। বিকল হওয়া লাইটগুলো সচল করা হবে এবং বাকিগুলোও স্থাপন করা হবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে