প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫, ২:২৪ পিএম

প্রতীকী ছবি
রাজধানীতে ভূমিকম্পে নিহত রাফির মরদেহ পড়ে আছে হাসপাতালে আর আহত মা নুসরাতের অস্ত্রোপচার চলছে অপরাশেন থিয়েটারে।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে মায়ের সঙ্গে মাংস কিনতে বাজারে গিয়েছিলেন রাফি। বংশালের কসাইটুলিতে নয়নের মাংসের দোকানের সামনে দাড়িয়ে ছিলেন তারা। হঠাৎ ভূমিকম্প শুরু হয়। তীব্র ঝাঁকুনিতে দোকানের ভবনটির রেলিং ভেঙে পড়ে তাদের ওপর।
অপারেশন থিয়েটারে শরীরের যন্ত্রণা নিয়েও এক মুহূর্ত ছেলের কথা ভুলতে পারছেন না মা। বারবার জিজ্ঞাসা করছেন, ‘রাফি কেমন আছে?’। হয়তো তিনি জানেনই না, তার আদরের ছেলে আর কোনোদিন চোখ মেলে পৃথিবীর আলো দেখবে না।
নিহত রাফির গ্রামের বাড়ি বগুড়া। তারা দুই ভাই-বোন। বাবা চাকরি করেন দিনাজপুরে। হলে সিট পেলেও ঢাকায় মা এবং বোনের সঙ্গে বাসাতেই থাকতেন সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফি।
রাফির সহপাঠি অপু জানান, আশপাশের লোকজন দৌড়ে এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে গেলে চিকিৎসকরা জানান, রাফি মারা গেছেন। ভিডিও ফুটেজ এবং ছবিতে দেখা গেছে, রাফির মাথার সামনের অংশ এবং মুখমণ্ডল থেঁতেলে গেছে।
এদিকে মর্মান্তিক এই খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে এসেছে রাফির একমাত্র বোন। ভাইয়ের লাশ আর মায়ের যন্ত্রণা শোকের পাথর হয়ে চেপে ধরেছে তাকে!
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাফির মাকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়েছে। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
পুলিশের বংশাল থানার ডিউটি অফিসার সময় সংবাদকে জানিয়েছেন, কসাইতটুলিতে একটি পাঁচ তোলা ভবনের রেলিং ভেঙে পড়লে তিনজন পথচারি নিহত হন।এদেরই একজন রাফি। নিহতদের মধ্যে শিশুসহ বাকি দুজনের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। মরদেহগুলো সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মিডফোর্ড) রয়েছে।
পুলিশের লালবাগ বিভাগের সহকারি কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামি বলেন, কসাইটুলিতে বাড়ির অংশবিশেষ বা সানসেট ভেঙে ঘটনাস্থলেই দুইজন মারা যান। অপর আরেকজন হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান।
স্বদেশ প্রতিদিন/ এমএস