প্রকাশ: সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫, ৫:২৯ AM

মেট্রোরেল লাইন–১ প্রকল্পে সম্ভাব্য অনিয়ম, কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী হয়রানি এবং বিআরটিএ বরিশাল কার্যালয়ে ঘুষ–দুর্নীতির অভিযোগে পৃথক তিনটি অভিযানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার দুদকের তিনটি অফিস থেকে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।
দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম জানান, এনফোর্সমেন্ট ইউনিট গুরুত্বপূর্ণ তিনটি অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান চালায়।
দুদক জানায়, ঢাকা মেট্রোরেল লাইন–১ প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য অনিয়মের তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান কার্যালয় থেকে একটি টিম মাঠে নামে। বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১৯.৮৭ কিলোমিটার পাতাল রুট ও নতুন বাজার থেকে পিতলগঞ্জ পর্যন্ত ১১.৩৬ কিলোমিটার উড়াল রুটসহ মোট ৩১.২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-১ প্রকল্প ১২টি প্যাকেজে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
টিম CP–01 প্যাকেজের আওতায় রূপগঞ্জের পিতলগঞ্জ মৌজায় প্রায় ৯০ একর জমিতে সম্পন্ন ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করে। স্যান্ড এমব্যাংকমেন্ট ও ফিলিং-সংক্রান্ত কাজে সম্ভাব্য অনিয়ম খতিয়ে দেখার অংশ হিসেবে রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। রেকর্ড বিশ্লেষণের পর বিস্তারিত প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়া হবে।
ভুরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও অনিয়মের অভিযোগে দুদক ছদ্মবেশে অভিযান চালায়। তদন্তে অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারদের অতিরিক্ত ভাড়া দাবি, লগবুকে জালিয়াতি, প্যাথলজি বিভাগে রশিদ ছাড়া টাকা আদায়, হাসপাতালের ওয়াশরুম বন্ধ থাকা এবং ১০-১২ জন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধির অনিয়মিত প্রবেশের প্রমাণ পায়। জিজ্ঞাসাবাদে এক প্রতিনিধি নিয়মবহির্ভূত প্রবেশের কথা স্বীকার করে অঙ্গীকারনামা দেন।
বিআরটিএ বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ে ঘুষের বিনিময়ে রুট পারমিট ইস্যু, সেবা হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগে দুদক তদন্ত চালায়। দুদক জানায়, ২০২৩ সালের আগস্টে প্রতিষ্ঠানটি ১৭৩টি গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস-ট্যাক্স টোকেন ইস্যু করেছে, পাশাপাশি যাত্রী-পণ্য পরিবহন কমিটির অনুমোদিত ৫৭১টি থ্রি–হুইলারের মধ্যে ৫১১টির রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়। একই বিষয়ে পূর্বে দায়ের করা একটি মামলার তদন্ত চলমান।
বরিশাল অফিস থেকে নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে এবং যাচাই–বাছাই শেষে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করা হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে