
পোকামাকড় দমনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পার্চিং পদ্ধতি
ধানের জমিতে পোকামাকড়ের আক্রমণ দীর্ঘদিন ধরে কৃষকদের জন্য একটি বড় দুশ্চিন্তার কারণ। এ সমস্যা মোকাবিলায় অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক কীটনাশক। এটি যেমন মাটির উর্বরতা কমায় ও পরিবেশের ক্ষতি করে, তেমনি মানবস্বাস্থ্যের জন্যও গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে। এসব ঝুঁকি এড়াতে মেলান্দহ উপজেলার ধানচাষীরা বিকল্প ও নিরাপদ উপায় হিসেবে পার্চিং পদ্ধতির প্রতি ঝুঁকছেন।
ধানক্ষেতে গাছের ডাল, বাঁশের কঞ্চি, ধইঞ্চার ডাল বা খুঁটি পুঁতে পাখি বসার পরিবেশ তৈরি করা হয়। পাখিরা ওই খুঁটিতে বসে মাঠের ক্ষতিকর পোকা খেয়ে ফসল রক্ষা করে। এই প্রাকৃতিক কীট দমন পদ্ধতিটিই ‘পার্চিং’ নামে পরিচিত। এতে রাসায়নিক কীটনাশকের প্রয়োজন কমে, জমি ও ফসল দূষণমুক্ত থাকে, পাশাপাশি খরচও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যায়।
চলতি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ ধানক্ষেতজুড়ে দূরে দূরে পোঁতা রয়েছে বাঁশের কঞ্চি বা গাছের ডাল। এসব কঞ্চি বা ডালের ওপর বসে থাকে শালিক, বক, ফিঙে, চড়ুই, বুলবুলি ও ঘাসফড়িংখেকো নানা প্রজাতির পাখি। পাখিগুলো ধীরে ধীরে ধানগাছের পাতায় নেমে মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, পাতা ফড়িং, খাট সুর, কারেন্ট পোকা ও ঘাসফড়িং খেয়ে ফসলকে প্রাকৃতিকভাবে রক্ষা করে।
কৃষকদের মতে, মাঠে একবার পাখির অবস্থান তৈরি হলে ক্ষেতে অতিরিক্ত পোকা জন্মায় না এবং রোগবালাই স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। ফলে ধান উৎপাদন হয় নিরাপদ, বিষমুক্ত এবং খরচও কমে যায় তুলনামূলকভাবে।
এদিকে, পার্চিং পদ্ধতি শুধু ফসলই রক্ষা করছে না, মাঠে পাখির আগমনে ফসলি জমির পরিবেশও ফিরে পাচ্ছে স্বাভাবিক ভারসাম্য। প্রকৃতি ও কৃষি, উভয়ই লাভবান হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের মতে, “ পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে রাসায়নিকের ওপর নির্ভরশীলতা কমছে, আর বৃদ্ধি পাচ্ছে উৎপাদন। তাই পার্চিং এখন ধান উৎপাদনে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই একটি নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।"