প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:৩৩ AM আপডেট: ১৪.১১.২০২৫ ৯:৪০ এএম

সংগৃহীত ছবি
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন বলছেন, তাদের সরকারের পতনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমা কোনো শক্তির সরাসরি ভূমিকা ছিল না। ক্ষমতাচ্যুতির প্রায় ১৫ মাস পর এই মন্তব্য এসেছে, যদিও গত বছরের জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানের পর হাসিনা ও তার সরকারের মন্ত্রী ও নেতাকর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রকে দোষারোপ করতেন।
এক সাক্ষাৎকারে হাসিনা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ভালো ও স্থিতিশীল। তাই ‘ওয়াশিংটন বা অন্য কোনো বিদেশি শক্তি বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিষয়ে সরাসরি জড়িত’, এমন দাবির কোনো ভিত্তি নেই।
তিনি আরও বলেছেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস পশ্চিমা বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। পশ্চিমা বিশ্বে তার অর্থনৈতিক ভাবমূর্তি অনেক প্রশংসা পেয়েছে, কিন্তু এটি ভুলভাবে গণতান্ত্রিক যোগ্যতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে।
হাসিনা দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের তখনকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রেখেছিলেন। তিনি বলেন, পশ্চিমারা যদি ইউনূসকে বন্ধু মনে করে, তবে তারা প্রতারিত হচ্ছেন।
গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিহত হন। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমন করতে সরকার ছাত্রলীগ ও সশস্ত্র বাহিনী ব্যবহার করে। তীব্র জনরোষের মুখে শেখ হাসিনা ক্ষমতা হারান এবং ভারতে পালিয়ে যান।
জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলন চলাকালীন এক হাজার চারশ’র বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত ও পঙ্গু হয়েছেন আরও হাজার হাজার মানুষ। ১১,৭০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, হত্যাকাণ্ড ও দমন-পীড়নে সমন্বয়কের ভূমিকায় ছিলেন শেখ হাসিনা।
একটি ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডিং থেকে দেখা গেছে, জুলাইয়ে আন্দোলন চলাকালে শেখ হাসিনা নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছেন। এই ঘটনায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়েছে। রায় ঘোষণা হবে আগামী ১৭ নভেম্বর (সোমবার)।