প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:৪৯ AM

সংগৃহীত ছবি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ডকুমেন্টারিতে তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করার বিষয়টি স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে বিবিসি। তবে মানহানির অভিযোগে ক্ষতিপূরণের দাবি প্রতিষ্ঠানটি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবিসির চেয়ারম্যান সামির শাহ হোয়াইট হাউসে পাঠানো এক চিঠিতে স্বীকার করেন যে প্যানোরামা অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি ডকুমেন্টারিতে ট্রাম্পের ভাষণ সম্পাদনার ক্ষেত্রে গুরুতর ভুল ছিল। এ জন্য বিবিসি দুঃখ প্রকাশ করে।
তবে বিবিসি জানিয়েছে, এ ঘটনায় মানহানির মামলা করার ভিত্তি নেই এবং বিতর্কিত ডকুমেন্টারিটি পুনঃপ্রচার করার কোনো পরিকল্পনাও নেই।
ডকুমেন্টারিটি একটি তৃতীয় পক্ষের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিল। সেখানে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ট্রাম্পের বক্তৃতার দুই অংশের তিনটি উদ্ধৃতি একত্র করে এমনভাবে দেখানো হয় যেন তিনি সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন। বাস্তবে দুটি অংশ ছিল প্রায় এক ঘণ্টা ব্যবধানে এবং সেখানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের আহ্বানও ছিল, যা ভিডিও থেকে বাদ দেওয়া হয়।
এই বিষয়টি সামনে এনে ট্রাম্পের আইনজীবীরা ডকুমেন্টারি প্রত্যাহার, ক্ষমা ও অন্তত ১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। অন্যথায় মামলা করার হুমকিও দেন।
এদিকে বিবিসিতে ‘পদ্ধতিগত পক্ষপাতের’ অভিযোগ নিয়ে টেলিগ্রাফে ফাঁস হওয়া রিপোর্ট বিতর্ক আরও জোরদার করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিবিসির মহাপরিচালক টিম ডেভি এবং নিউজ প্রধান ডেবোরা টার্নেস পদত্যাগ করেন। টার্নেস বলেন, “দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত আমার।” ডেভিও স্বীকার করেন, কিছু ভুল হয়েছে এবং তিনি তার জন্য দায় নিচ্ছেন।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্য কোনো দেশেই ট্রাম্পের মামলাটি এগিয়ে নেওয়া কঠিন হবে। কারণ তিনি শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের নির্বাচনে জিতেছেন অর্থাৎ তার সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা প্রমাণ করা কঠিন। যুক্তরাজ্যে মামলা করার সময়সীমাও আগেই পেরিয়ে গেছে। আর ডকুমেন্টারি যুক্তরাষ্ট্রে প্রচারিতই হয়নি, ফলে সেখানেও ক্ষতির প্রমাণ দেখানো কঠিন হবে।